মীর দুলাল বিশেষ প্রতিবেদন!
হবিগঞ্জ শহরে ৫টি এলাকায় চুরি ও ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকায় আদি গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারে কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙ্গে নগদ ৫ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়।
এছাড়া শহরের শংকরের মুখ, রাজনগর, নিউ মুসলিম কোয়ার্টার ও শহরবতলীর বাহুলায় পৃথক চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার দিবাগত সন্ধ্যা ও ভোর রাতে পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
এদিকে, আদি গোপালে ডাকাতির ঘটনায় অসিম চন্দ্র দাশ নামে ওই মিষ্টান্ন ভান্ডারের এক দোকান কর্মচারী আহত হয়েছেন।
তাকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এসব চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার সারাদিন দোকানের বেচাকেনা ও মিষ্টি তৈরীর কাজ শেষ করে আদি গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের কর্মচারীরা ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার ভোর রাতে ৪/৫ জন অস্ত্রধারী ডাকাত টিনের চাল কেটে দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সজাগ হন দোকানের ভিতর ঘুমিয়ে থাকা কর্মচারি অসিম চন্দ্র দাশ।
এ সময় ডাকাতরা তার গলায় অস্ত্র ধরে এবং অপর একজন কর্মচারীকে লাথি মেরে চুপ থাকতে বলে।
কথা বললে চুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ডাকাতরা দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা ও মূল্যবান জিনিসিপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
সকালে খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। খবর পেয়ে জেলা
হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি শামছুল হুদাসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এছাড়া একই দিন সন্ধ্যা রাতে শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় ওয়ালটনের স্বত্ত¡াধিকারী মোদারিছ আলী টেনুর মালিকানাধিন একটি বাসায় দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়েছে।
চোরেরা বাসায় ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ২ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। বাসার ভাড়াটিয়া সেবুল মিয়া তার ছেলে নিয়ে গতকাল দুপুরে সিলেটে একজন রুগী দেখতে যান এবং তার স্ত্রী ডেইজি আক্তার রাজনগরে পিতার বাসায় চলে যান। এ সুযোগে চুরেরা বাসায় প্রবেশ করে টিভি, ল্যাপটপ, ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
অপর দিকে, একই দিন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. সুভাষ দেবের বাসায় ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতরা বাসায় রক্ষিত মূল্যবান গয়না ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
শহরের শংকরেরমুখ এলাকায় কয়েকটি মোবাইল ফোনের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় চোরের দোকানে রক্ষিত মোবাইল ফোন ও আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
এর আগের দিন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলার বাগান বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। গত বুধবার ভোররাতে গৃহকর্তা ছৈদ আলীর বাড়ী না থাকার সুযোগে ৮/১০ জনের একদল ডাকাত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ওই বাড়ীতে ডাকাডাকি করে।
এ সময় গৃহকর্তী সুমি আক্তার দরজা খুলতে অস্বীকার করলে তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। তাকে ও তার দুই কন্যাকে হাত পা বেধে ফেলে অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে। পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। যাবার সময় পাশের ঘরে থাকা ভাড়াটিয়া এক কিশোরকে পিটিয়ে আহত করে।
সচেতন মহলের দাবি এ সব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনী, র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। আদি গোপালের এক কর্মচারী বলেন, ‘ডাকাত দলের সবাই কালো পোষাকলিলিকে ল্ল পরিহিত ছিল। প্রত্যেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
তারা গলায় চুরি ধরলে আমরা ভয় পেয়ে যাই’।
অপর দিকে, শহরতলীর বহুলার বাগান বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতরা ওই ঘরের গৃহকর্তী ও তার মেয়েদেরকে হাত-পা বেধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ভোররাতে গৃহকর্তা ছৈদ আলী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ৮/১০ জনের একদল ডাকাত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ওই বাড়ীতে ডাকাডাকি করে।
এ সময় গৃহকর্তী সুমি আক্তার দরজা খুলতে অস্বীকার করলে তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। তাকে ও তার দুই কন্যাকে হাত পা বেধে ফেলে অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে।
পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। যাবার সময় পাশের ঘরে থাকা ভাড়াটিয়া এক কিশোরকে পিটিয়ে আহত করে।
সচেতন মহলের দাবি এ সব বিষয়ে দ্রত ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনী, র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আদি গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্ত¡াধিকারী রূপক দাশ জানান, ক্যাশে দূর্গা পূজা উপলক্ষে কর্মচারিদের বেতন-বোনাসসহ নগদ কয়েক লাখ টাকা ছিল। গতকাল শনিবার কর্মচারিদের বেতন বোনাস ও কর পরিশোধ করার কথা ছিল।
ব্যকস সভাপতি শামছুল হুদা বলেন, ‘ঘন ঘন চুরি ও ডাকাতির কারণে ব্যবসায়ীদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। পুলিশ জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, আদি গোপালে চোরেরা টিনের ফাঁকা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে কর্মচারীদের অস্ত্র দেখিয়ে চুরি সংঘটিত করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি’।