মীর দুলাল বিশেষ প্রতিবেদন!
নবীগঞ্জের আলোচিত মোস্তাকিন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার আসামি রায়হান উদ্দীন।
অনৈতিক সম্পর্কের কারণে নিহতের দুই ভাবির সহায়তায় গলা কেটে হত্যা করা হয় ওই কিশোরকে।
শুক্রবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামের কিশোর মোস্তাকিন হত্যামামলার প্রধান আসামি রায়হান।
এদিকে আসামির জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডসংশ্লিষ্ট বেশকিছু আলামত উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার রাতেই নিহতের দুই ভাবি রোজিনা বেগম ও তাছলিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামের মৃত জফর মিয়ার চতুর্থ সন্তান মোস্তাকিন মিয়াকে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর তার শোবার ঘরে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
প্রথম থেকেই ওই কিশোর নিহতের ঘটনা প্রবাসী দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের অনৈতিক সম্পর্কের বলি বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মা রায়হান উদ্দীনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন।
গুঞ্জন থাকলেও মোস্তাকিন হত্যাকাণ্ডে তার দুই ভাবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আমলে নেননি তিনি। তাই মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রায়হান জানান, প্রথমে নিহতের মেজো ভাবি তাছলিমা বেগমের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বড় ভাবি রোজিনা বেগমের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান রায়হান। তাদের স্বামী প্রবাসে অবস্থান করছেন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এরপরও রায়হান মোস্তাকিনদের বাড়িতে যাতায়াত অব্যাহত রাখেন।
২৪ নভেম্বর রাতে বড় ভাবি রোজিনার ঘরে যাওয়ার সময় রায়হানকে দেখে ফেলে মোস্তাকিন।
বিষয়টি সে মাকে জানাবে বলে রায়হানকে সাবধান করে। পরে তার দুই ভাবির সঙ্গে পরামর্শ করে মোস্তাকিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রায়হান।
পরদিন রাতে তারা তিনজন মোস্তাকিনের ঘরে গিয়ে তাকে হত্যা করেন। এ সময় মেজো ভাবি তাছলিমা মোস্তাকিনের দু’পা চেপে ধরেন।
তার হাত ও শরীর চেপে ধরেন বড় ভাবি রোজিনা। অসহায় কিশোরের গলায় ছুরি চালান রায়হান উদ্দীন।
এ ঘটনার ১১ দিনের মাথায় র্যাব-৯ অভিযান চালিয়ে সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকা থেকে আসামি রায়হান উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে।