তাইয়েব ইবনে ফারুকী, ময়মনসিংহ
আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসবকে সামনে রেখে ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও অনুদান প্রদান করেছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভালুকা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আয়োজিত এ সভা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সফল ছাত্রনেতা, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ।
অনুষ্ঠানে ভালুকা উপজেলার মোট ৬২টি পূজা মণ্ডপে তিন লক্ষ দশ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থেকে অনুদান গ্রহণ করেন। অনুদান প্রদানের সময় বক্তারা বলেন, ধর্ম যার যার হলেও উৎসব সবার। এ ধরনের সহযোগিতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন ফ্রন্টের ভালুকা শাখার আহ্বায়ক শ্রী স্বপন বণিকসহ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি সবসময় এমন উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি সব সময়ই জনগণের পাশে থেকেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। তাই উৎসবমুখর এ সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়ানো দলের নৈতিক দায়িত্ব।
সভায় উপস্থিত পূজা মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ অনুদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ সহায়তা উৎসব সফলভাবে আয়োজন করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন সম্ভব হয়।
প্রসঙ্গত, ভালুকা উপজেলায় প্রতিবছর শারদীয় দূর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপজেলার ৬০টির বেশি পূজা মণ্ডপে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পূজা উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এবারের অনুদান কার্যক্রম স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এভাবে প্রতিনিয়ত আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তবে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে।