মো রাজু আহমেদ (রাজশাহী) জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী-১(তানোর -গোদাগাড়ী) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী জিয়া ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য গোদাগাড়ী বিএনপি নেতা এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক সম্প্রীতির মাধ্যমে তৃনমুল বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটারেরা। যার কারণে দিন যতই যাচ্ছে ততই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন সুলতানুল ইসলাম তারেক। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে আপামর জনতার আপদ বিপদে সংবাদ পাওয়া মাত্র খোঁজ খবর নিতে ছুটে যান এই তরুণ নেতা। তার কাছে শীর্ষ তৃনমুল কোন পার্থক্য নেই বললেই চলে। একারনে অল্প সময়ে নানা ঘাত প্রতিঘাত ও হামলার স্বীকার হয়েও মাঠ না ছাড়ার কারনেই এত জনপ্রিয়তা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারন তার সাথে সহজেই কথা বলে নানান সমস্যার কথা নির্বিঘ্নে বলতে পারেন দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারেরা।
জানা গেছে, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর থেকে রাজশাহী ১ ভিআইপি আসনের আনাচে কানাচে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাস্ট্র মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট সাধারণ ভোটারদের হাতে তুলে দিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি এডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক। এই ৩১ দফা লিফলেট বিতরণে নিজ দলের দ্বারা হামলার স্বীকার হন তিনি। হামলার পরও কোনভাবেই দমে যান নি এই নির্যাতিত নেতা। তানোর গোদাগাড়ী উপজেলার পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে হাট বাজারে ব্যাপক ভাবে গণসংযোগ করেই চলেছেন। যার ফলে তার জনপ্রিয়তা শীর্ষ পর্যায়ে। জনপ্রিয়তায় ঈষার্নিত হয়ে অপর পক্ষ তার ফেস্টুন পোষ্টার প্রতি নিয়তই ছিড়ে ফেলছে। কিন্তু তিনি সেই রাজনীতি না করে নেতাকর্মীদের সম্প্রীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ওবাইদুর রহমান জানান, সুলতানুল ইসলাম তারেক একজন মানবিক নেতা হিসেবে ইতিপূর্বেই পরিচিত লাভ করেছেন।তার জনপ্রিয়তা এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা সার্বক্ষণিক তারেকের সাথে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু অপর পক্ষের হুমকি ধামকি তে অনেকে প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন না। গত জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তারেক অনুসারী একাধিক নেতাকর্মী কে পিটিয়ে জখম করেছে অপর পক্ষরা। আহত হওয়া নেতাকর্মীদের যাবতীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন তিনি।
দলীয় সুত্র জানায়, রাজশাহী -১ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও বারবার তারেক অনুসারীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। যাতে করে তিনি ভোটের মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় নির্যাতন কারাভোগ করে দলীয় কর্মীদের সঠিক নির্দেশনা দিতেন তিনি এবং সব সময় বলতেন ধৈর্য ধরে রাজনীতি করতে হবে। কোন সহিংসতা করা যাবে না। তার সহনশীল রাজনীতির কারনে দিনের দিন শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তার ছায়াতলে এসেছেন। চলতি মাসের ৫ আগষ্টের আগের দিন তানোর থানা মোড়, উপজেলা মোড়, গোল্লাপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তারেকের ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে অপর পক্ষরা। তার কয়েকদিন পরে গোদাগাড়ী এলাকায় তার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়। এতকিছুর পরও তিনি কোন প্রতিশোধ প্রতিহিংসা মুলুক রাজনীতি না করার কারনে তৃনমুল থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করেই চলেছেন।
তৃনমুলের ভাষ্য, গত রমজান মাসে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিলের প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল (অব) শরিফ উদ্দিন কে বরণ করা নিয়ে কৃষ্ণপুর মোড়ে সাবেক চেয়ারম্যান মমিনুল হক মমিন ও ইউপি সভাপতি প্রভাষক মজিবুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে চিকিৎসা ধীন অবস্থায় মমিনের ভাই বিএনপি কর্মী গানিউল মারা যান। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। একারনে ইউপি বিএনপির সভাপতি প্রভাষক মজিবুর রহমান ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান কে দলকে থেকে বহিষ্কার করা হয়। মামলায় কারাভোগ করতে হয় মজিবুর সহ নেতাকর্মী দের। হত্যার ঘটনায় উপজেলায় দলীয় ভাবে ইফতার দিতে নিষেধ করেন জেলা কমিটি। কিন্তু সেই নিষেধ কে অমান্য করে মেজর জেনারেল (অব) শরিফ উদ্দিন ক্ষমতার দাপটে মুন্ডুমালা পৌরসভা, কলমা ইউনিয়ন ও চান্দুড়িয়া ইউপিতে ইফতারের আয়োজন করে নতুন রুপে সহিংস করে তোলেন তিনি। চান্দুড়িয়া ইউপিতে ইফতার মাহফিল শেষে চাঁদা, গভীর নলকূপের সেচ দখল নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে চিকিৎসা ধীন অবস্থায় নেকচার নামের কৃষক দলের কর্মী মারা যান। দুই হত্যার পর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় উপজেলা আহবায়ক কমিটির সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যাক্রম থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়। গত ৫ আগষ্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির আনন্দ র্যালী ও থানা মোড়ে পথসভা করে। প্রধান অতিথি ছিলেন মেজর জেনারেল(অব) শরিফ উদ্দিন । কিন্তু বহিস্কৃত ও হত্যা মামলার আসামী দের র্যালি করার কারনে উপজেলা বিএনপির বৃহত্তর আরেক গ্রুপ অংশ গ্রহণ করেননি। তারা ওই দিন বিকেল গোল্লাপাড়া বাজারে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করেন। গত ১৫ আগষ্ট বেগম জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালন হয় আলাদা ভাবে।
তানোরে দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে গ্রুপিং রয়েছে। কিন্তু সহিংসতা চিল না এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় কাউকে জীবন দিতে হয় নি। তাহলে কেন শান্তিপূর্ন তানোরে সহিংসতায় প্রান গেল দুই নেতার। এরদায় কে নিবে, রাজনীতির হাতে কেন রাজনীতি খুন হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানে মানবিক রাজনীতি। সহিংসতা, স্বৈরাচার, দখলবাজ, টেন্ডার বাজ,নিয়োগ বানিজ্য রাজনীতি করলে তার পরিনাম কি হয় সেটা বিশ্ব দেখেছে। তারপরও রাজনীতি বিদরা কেন এসব আচারন পুনরায় শুরু করলেন। এটা দলের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। পারিপারিক প্রভাব না মানবিক ব্যক্তিকে আগামীর নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হোক। দখলবাজ মাস্তানি রাজনীতি বন্ধ করা হোক। দলে এত বিবেদ কেন থাকবে, এত লবিংগ্রপিং কেন হবে। কার জন্য আজ অবস্থা সবাই জানে। সুতরাং ওই সব দুষ্কৃতদের রাজনীতে জায়গা দিলে আগামীতে আরো কঠিন সময় পার করতে হবে। ভায়ের পরিচয়ে রাজনীতি হয়না, নিজের যোগ্যতায় রাজনীতি করতে হয়