এ কে আজাদ সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা ছনবাড়ি বাজারে নির্মিত একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মাত্র কয়েক শতক জায়গার মালিকানা সংক্রান্ত মামলার জেরে ১৯৯০ সালে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনবল সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটি পরিচালিত হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি ওষুধসেবা পেতেন। তবে ২০০২ সালে হঠাৎ করেই এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনটি এখন জীর্ণ দশায় পরিণত হয়েছে। দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা। চারপাশে ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে সরকারি ভবনটি।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ছনবাড়ি ইউনিয়নটি ছোট-বড় টিলা ও নদীবেষ্টিত। এখান থেকে উপজেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় একজন সাধারণ রোগীর সদর হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। অনেক সময় জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একসময় সামান্য অসুখ-বিসুখে মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিত। কিন্তু ২৩ বছর ধরে এটি তালাবদ্ধ। আমাদের চোখের সামনেই সরকারি ভবনটি জঙ্গল আর লতাপাতায় ঢেকে গেল, অথচ দেখার কেউ নেই। এখন সামান্য জ্বরের ওষুধের জন্যও ১৫ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন,
এলাকাটি টিলা ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় যাতায়াত খুবই কষ্টকর। বিশেষ করে রাতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া জীবন-মরণের লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চাই দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু করা হোক।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ময়না মিয়া বলেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য আশার আলো ছিল। কিন্তু জায়গা সংক্রান্ত মামলার কারণে ২৩ বছর ধরে ১০–১২টি গ্রামের মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। দ্রুত এটি চালু করা এখন সময়ের দাবি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেল জানান, দুটি পক্ষ জায়গার মালিকানা দাবি করায় বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই আইনি জটিলতার কারণেই মূলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ আছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উপজেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি একাধিকবার উত্থাপন করেছি। আইনি বাধা কাটলেই এটি চালু করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আমি সদ্য এই উপজেলায় যোগদান করেছি। ছনবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আইনি জটিলতা নিরসন করে কীভাবে দ্রুত জনসেবার উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট না করে দ্রুত আইনি বাধা দূর করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার ও চালু করা হোক। এতে দুর্গম এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের দোরগোড়ায় ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।