অতুল সরকারঃ রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের হাটবনগ্রাম বারো পল্লী মহাশ্মশান কালীমন্দিরের কালীপ্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (২ জানুয়ারী) সন্ধ্যার পর থেকে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারী) ভোরের মধ্যে মন্দিরটিতে এ ঘটনা ঘটে।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ছাদযুক্ত পাকা মন্দিরটিতে মাটির তৈরি কালীপ্রতিমা ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে মমতা বর্মন নামের একজন মন্দিরে গিয়ে কালীপ্রতিমা, শীব,সর্প (সাপ), ও ডাকিনী-যোগিনীর মুখের অংশ বিকৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মন্দির কমিটির নেতারা ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে জড়ো হন।
পরে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার ও পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাঈনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান এবং আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
পাংশা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, শ্মশানের মন্দির হওয়ায় কোনো পাহারাদার থাকে না। সিসি ক্যামেরাও নেই। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের বাইরে থেকে বড় বাশ কিংবা লোহার কিছু দিয়ে প্রতিটি প্রতিমার মুখ বিকৃত করে দিয়েছে। বিগত দিনে এমন ঘটনা এখানে ঘটে নাই।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কাজ যারা করছে তারা মানুষ না অমানুষ। আমরা যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চলের মানুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বসবাস করে আসছি। একটা স্বার্থন্বেষী মহল আমাদের এই ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে বিনষ্ট করতে এই কাজ করেছে।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রিফাতুল হক বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। আমি শ্মাশান কমিটির সাথে কথা বলেছি। যেহেতু এই প্রতিমা অনেক আগেই বিসর্জন দিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো, তবে কোন কারণে কমিটি প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারেন নাই। এই প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে নতুন করে প্রতিমা তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন কে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে।তাদের ধারণা কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। আমরা সজাগ আছি কোন দুষ্কৃতিকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অতুল সরকার /রাজবাড়ী প্রতিনিধি
৪/২/২০২৬- ০১৭১১০৫০৯৩৭