এ কে আজাদ, সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধ।
সিলেটের গোয়াইনঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদা, বিনম্র শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। ভোরেই উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী এবং গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন প্রথমে শ্রদ্ধা জানান।
পরে উপজেলা বিএনপি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব, গোয়াইনঘাট উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন পর্যায়ক্রমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মডেল হাই স্কুল মাঠে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্কাউট গ্রুপ অংশগ্রহণ করে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
ডিসপ্লে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্ত স্কাউট গ্রুপ, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে অক্সফোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোয়াইনঘাট এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ স্কাউট গ্রুপ। পরে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ইউএনওসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মত্যাগের গৌরবগাথা স্মরণ করেন। এসময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা বিএনপি ও তাতি দলের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিবছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবসের এ আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দিনব্যাপী উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে গোয়াইনঘাটজুড়ে স্বাধীনতার এই মহোৎসব উদযাপিত হয়।
সমাপনী বক্তব্যে ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, “অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে।