রাহী রহমান-বিশেষ প্রতিনিধিঃ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা |
০৪ এপ্রিল, ২০২৬
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৫ নং শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ ৮ নং ওয়ার্ডের পইরল গ্রামে নুরজাহান বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ শনিবার দুপুরে থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।
প্রাথমিক তথ্যমতে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
মৃত গৃহবধূর পরিচয়ঃ
নিহত: নুরজাহান বেগম (২৪)
পিতা: এলাই মিয়া
স্বামী: মোঃ কাউসার মিয়া (২৮)
স্থান: পশ্চিমভাগ ৮ নং ওয়ার্ড পইরল গ্রাম, ৫ নং শিবপাশা ইউনিয়ন, আজমিরীগঞ্জ।
ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে নুরজাহান বেগমের সাথে তার স্বামী মোঃ কাউসার মিয়ার (২৮) প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়। এরপর ভোর আনুমানিক ৫:৩০ মিনিটের দিকে গৃহবধূর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিমের নির্দেশনায় এসআই মামুনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আজ দুপুর ১:৩০ মিনিটের দিকে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
তদন্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান:
"প্রাথমিক তদন্তে স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্বজনদের অভিযোগ ও স্থানীয় ক্ষোভ
নিহতের মামা মতিন মিয়া (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী কাউসার মিয়া বিভিন্ন সময় নুরজাহানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। নিহতের বাবা এলাই মিয়া ও শোকাতুর স্বজনদের দাবি, এটি কেবল আত্মহত্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের চূড়ান্ত পরিণতি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পইরল গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমান অবস্থা: মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।