রাহী রহমান বিশেষ প্রতিনিধিঃ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং জলসুখা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে চুরির উপদ্রব এবং মাদকের বিস্তার সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—কোথাও মিলছে না নিরাপত্তা।
চুরির উপদ্রবে আতঙ্কে এলাকাবাসী
গত কয়েক সপ্তাহে জলসুখা বাজার এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চুরির ঘটনা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি রাস্তাঘাটে থাকা যানবাহনও রেহাই পাচ্ছে না এই চক্রের হাত থেকে। সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরচক্রের তৎপরতা এখন আর রাতের অন্ধকারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সুযোগ বুঝে দিনের বেলাতেও তারা হানা দিচ্ছে।
নেপথ্যে ইয়াবার মরণনেশা
এলাকার সচেতন মহলের মতে, এই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ হলো মাদক, বিশেষ করে ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার। নেশার টাকা জোগাড় করতেই একদল বখাটে ও বিকারগ্রস্ত যুবক চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
ইয়াবার নীল দংশনে একদিকে যেমন ইউনিয়নের যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে চুরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিষাদময় করে তোলা হচ্ছে।
জনসাধারণের দাবি ও ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চুরির ভয়ে অনেকেই এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না।
ছোটখাটো চুরির পাশাপাশি মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল খোয়া যাওয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার। জনমতে এটি এখন স্পষ্ট যে, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য না কমালে চুরির এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন অনতিবিলম্বে জলসুখা ইউনিয়নে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। চুরির সাথে জড়িত দুষ্কৃতকারী এবং মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলসুখা বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার জন্য সচেতন মহল বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
উপসংহার: একটি আদর্শ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে মাদক ও অপরাধমুক্ত পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। জলসুখা ইউনিয়নের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধই এখন সময়ের দাবি।