মাসুম বিল্লাহ
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
শিশুদের আনন্দময়, সৃজনশীল ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাগেরহাটে উদ্বোধন করা হয়েছে “কোডেক ক্রিয়েটিভ চাইল্ড সেন্টার”।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) বিকাল পাঁচটায় শিশুদের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধন করেন কোডেক সাস্টেইনেবল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী ওয়াফিক আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশু, তাদের অভিভাবক, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কোডেক-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিশুরা খেলতে খেলতে শেখার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়, যা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
কোডেক ক্রিয়েটিভ চাইল্ড সেন্টারের লক্ষ্য হলো প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য STEAM (Science, Technology, Engineering, Arts and Mathematics) ভিত্তিক সহায়ক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। এর মাধ্যমে শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, কৌতূহল ও বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি বিকাশ করা হবে। এখানে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অংকন বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থাকবে, যা শিশুদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ছোট শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।
শিশুদের পড়ালেখার মনোযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষামূলক খেলনা, পাজল, ব্লক, অংকন সামগ্রী ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণ। এসবের মাধ্যমে শিশুদের খেলার মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সৃজনশীলতা বিকাশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজী ওয়াফিক আলম বলেন, শিশুদের শেখা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। খেলাধুলা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। কোডেক ক্রিয়েটিভ চাইল্ড সেন্টার শিশুদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে, যেখানে তারা আনন্দের সাথে শিখতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক রুবিনা আক্তার বলেন, বর্তমানে বাচ্চারা মোবাইল ফোনে বেশি সময় কাটাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের মোবাইল থেকে দূরে রেখে শেখা ও খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে। এতে শিশুদের মানসিক বিকাশের সুযোগ বাড়বে।
আরেক অভিভাবক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের জন্য এমন সৃজনশীল শিক্ষা কার্যক্রম খুবই প্রয়োজন ছিল। এখানে খেলতে খেলতে শেখার সুযোগ থাকায় বাচ্চারা আনন্দ পাবে এবং মোবাইল নির্ভরতা কমবে বলে আমরা আশা করছি।
আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাগেরহাটের শিশুদের জন্য একটি আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।