রাহী মিয়া.বিশেষ প্রতিনিধিঃ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা।
আজমিরীগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট এবং শিলং তীরের অবৈধ কারবার বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থার আবেদন।
১. প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি:
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম এবং পৌরসভা এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন বসতবাড়ির আশেপাশে আস্তানা গেড়েছে। একই সাথে 'শিলং তীর' নামক ডিজিটাল জুয়া সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। যুবসমাজ আজ ধ্বংসের মুখে, যার ফলে সামাজিক অপরাধ এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. জনমানুষের ভূমিকা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা:
জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল ব্রত। এলাকার মানুষ মাদক নির্মূলে বর্তমান সরকারের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বারবার ধরণা দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ যখন স্বেচ্ছায় মাদক প্রতিহত করতে এগিয়ে আসে, তখন কিছু প্রভাবশালী ও সুবিধাবাদী 'লাঠিয়াল বাহিনী' ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাদের বাধা প্রদান করে। ফলে সাধারণ নাগরিকরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
৩. প্রশাসনের ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা:
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রায়ই মাদকবিরোধী সভা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মিডিয়াতে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হলেও মাঠ পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশি তৎপরতা কেবল প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যখন সাধারণ মানুষ অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে চায়, তখন যথাযথ আইনি সুরক্ষার অভাবে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
৪. প্রধান অন্তরায়সমূহ:
সুবিধাবাদী মহলের আশ্রয়: মাদক ব্যবসায়ীদের পেছনে রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মদদ।
ভয় ও ভীতি প্রদর্শন: যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের ওপর হামলা বা হুমকির সংস্কৃতি।
শিলং তীর ও অন্যান্য জুয়া: প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গ্রামে গঞ্জে জুয়ার আস্তানা।
আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব: ধরা পড়ার পর খুব দ্রুত অপরাধীদের জামিনে বেরিয়ে আসা।
৫. সুপারিশমালা (দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি):
বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন: আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার হটস্পটগুলোতে নিয়মিত ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: যারা মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দেবে, তাদের নাম গোপন রাখা এবং পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা: স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে শুধু আশ্বাস নয়, বরং নিজ নিজ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করে প্রশাসনকে হস্তান্তর করতে হবে।
শিলং তীর বন্ধে কঠোরতা: এই ডিজিটাল জুয়া বা লটারির সিন্ডিকেটগুলোকে খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
মিডিয়া ও জনগণের সমন্বয়: লোকদেখানো প্রচারণা বাদ দিয়ে সত্যিকারের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপসংহার:
মাদক নির্মূল করা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। তবে নাগরিকরা তখনই সহযোগিতা করবে যখন তারা প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা পাবে। আজমিরীগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে এখনই কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
বিনীত,
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ।
তারিখ: মে ০৮, ২০২৬