পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস ,জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের পহড়ের বাড়ি গ্রামে সর্বজনীন শান্তি হরি গুরুচাঁদ মন্দির স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার (৪জুন ) মন্দির নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট জমি মূলত সর্বজনীন কালী মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্যে দলিলকৃত।
রামশীল ইউনিয়ন মতুয়া সংগঠনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নির্মল বাড়ৈ অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সর্বজনীন শান্তি হরি গুরুচাঁদ মন্দির নির্মাণ করছি। কিন্তু একই গ্রামের রবি পান্ডের ছেলে রতন পান্ডে, অসীম পান্ডের ছেলে অমিত পান্ডে এবং বিবেক পান্ডের ছেলে বিধান পান্ডের কথায় মন্দিরের সামনে কলাগাছ লাগিয়ে নির্মাণকাজে বাধার সৃষ্টি করেছেন। আমরা বারবার তাদের কাছে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা মিলেমিশে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে চাই, কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনছেন না।”
মন্দির পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, “ঘটনার সময় আমরা মন্দিরে ছিলাম না। বিকেলে এসে দেখি মন্দিরের সামনে কলাগাছ লাগানো হয়েছে। আমরা কোনো প্রতিবাদ করতে পারিনি। তারা প্রভাবশালী, আর আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা শান্তি হরি গুরুচাঁদের মন্দির নির্মাণ করে কী অপরাধ করেছি?”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিধান পান্ডে বলেন, “আমরা সর্বজনীন কালী মন্দিরের নামে সাত শতাংশ জমি দলিল করেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কালী মন্দির নির্মাণ করা। পরে মন্দির পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে, অন্য কোনো মন্দির হবে কি না।”
এ বিষয়ে সর্বজনীন কালী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হালদার বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই আগে কালী মন্দির নির্মাণ হোক। তবে যেহেতু হরি মন্দির স্থাপন হয়ে গেছে, এখন আর কী করার আছে। আমি এলাকায় থাকি না। তাই এ বিষয় মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
রামশীল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সবুজ বরণ অ্যাপোলো বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাই। এক পক্ষ উপস্থিত হলেও অন্য পক্ষ আসেনি। ফলে সেদিন কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা দ্রুত উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।”
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হলে এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে।