মীর দুলাল।। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার এলাকায় কোনো ধরনের ইজারা বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দিনরাত ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজীবাজারের ফতেগাজী মাজারের পূর্ব পাশে ফুটবল খেলার মাঠ সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সুন্দরপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আল আমীন, ইসমাঈল মিয়ার ছেলে আঃ কাইয়ুম মিয়া, মানিকপুর গ্রামের মো. বিপ্লব মিয়াসহ একটি প্রভাবশালী মহল এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমতি বা ইজারা ছাড়াই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বালু পরিবহনের কারণে স্থানীয় রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত ও কোথাও কোথাও ধসে পড়ছে। একই সঙ্গে ড্রেজার ও ভারী যানবাহনের শব্দ এবং ধুলাবালুর কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে পাহাড়ের তীরবর্তী ফসলি জমি এবং চা-বাগানের ছড়াগুলোর পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে ড্রেজিংয়ের ফলে নিকটবর্তী বিভিন্ন সেতু ও কালভার্টের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এতে বড় ধরনের ধস ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অবৈধ বালু বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা শংকর বিষু বলেন, “রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় বলেন, “গভীর রাতে একটি মহল সিলিকা বালু উত্তোলন করেছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বালু উত্তোলনকারীদের শনাক্ত করে ধরতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ ও অবকাঠামো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।