মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে উপজেলা বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার মালিকানাধীন কফিশপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়াকে মারধর করে অচেতন করে ফেলা এবং নগদ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা লুটসহ প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়া (২৮) বৃহস্পতিবার দুপুরে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এর আগেনবুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ছোট পাইকুরা গ্রামের ‘বাগান বিলাস কফি হাউজে’ এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম (৫২), তাঁর ভাই মামুন মিয়া (৩৮), মোবারক (৪৫), মুখলেস (৩৫), মাসুদ মিয়া, তাঁর ছেলে নাঈম মিয়া (২২) এবং সোহেল মিয়া(৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা উপজেলার বাহাম গ্রামের বাসিন্দা।
কফিশপটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নোমান আহমেদ।
এটি পরিচালনা করেন তারই ভাগ্নে একই উপজেলার নাগডরা গ্রামের শাকিল মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে পার্শ্ববর্তী পেরীরচর গ্রামের বাসিন্দা অন্তর মিয়া তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে কফিশপটিতে যান। সেখানে নাঈম মিয়া অন্তরের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে অন্তর মিয়ার সঙ্গে নাঈমের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। কফিশপের পরিচালক শাকিল মিয়া পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে অন্তর মিয়া তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছু সময় পর নাঈম তাঁর বাবা মাজারুল ইসলাম সংগ্রাম, চাচা মাাসুদ, মুখলেসসহ আরও ২০-২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে কফিশপে যান। সেখানে অন্তর মিয়াকে না পেয়ে তাঁরা শাকিল মিয়ার ওপর হামলা চালান। তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
এ সময় হামলাকারীরা কফিশপের লাইট, চেয়ার, দোলনাসহ বিভিন্ন আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে ক্যাশ কাউন্টারে রাখা বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সংরক্ষিত ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ওই দিনের বিক্রির ১৪ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া কফিশপের বিভিন্ন মালামাল ও ডেকোরেশন সামগ্রী লুট এবং ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়রা অচেতন শাকিল মিয়াকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাজারুল ইসলাম সংগ্রামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর ছোট ভাই মামলার আরেক অভিযুক্ত মোহনগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মিয়া অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি আগে খুব ভালোভাবেই চলত। কিন্তু বর্তমান মালিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিবেশ কেমন যেন হয়ে গেছে। আমরা কখনো এর ভেতরে যাইনি।গতকাল সেখানে একটি ঝামেলা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, আমার ভাতিজা নাঈমসহ আরও তিনজন মিলে ইভটিজিং করেছে। কিন্তু বিষয়টি অভিভাবকদের কাছে না দিয়ে তারা নাঈমসহ কয়েকজনকে সেখানে মারধর করে। পরে নাঈম আমাদের ফোন করে বিষয়টি জানায়।
এরপর আমরা ওই কফি হাউসে গেলে কফি হাউসের এক কর্মীর বাজে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছুটা হাতাহাতি হয়। তবে এর বাইরে তারা যে ধরনের অভিযোগ করেছে, সেগুলোর কোনো ঘটনাই সেখানে ঘটেনি।”
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”