নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) ।। সরকারি নীতিমালায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নবীগঞ্জ উপজেলার ২নং বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ১৪ নং শৈলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত দাশের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সরকারি ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও পরীক্ষার ফি আদায় নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে কোচিং করানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, তারা কোচিংয়ের জন্য মাসে ৪০০ টাকা করে দেন।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত দাশ নিজেই ওই কোচিং পরিচালনা করেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কোচিং করানোর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, স্থানীয় অভিভাবকদের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য তিনি গনিত বিষয় পড়ান। তার দাবি, এটি ব্যক্তিগতভাবে নয়, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য তিনি কোচিং করেন।
তবে স্কুল চলাকালীন কেনো কোচিং জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’-এর ৩ নম্বর বিধিতে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এদিকে বিদ্যালয়ের সরকারি তিনটি ল্যাপটপের মধ্যে দু"টি বিদ্যালয়ে নেই। ৩ টির মধ্যে ২ দু"টি ল্যাপটপই প্রধান শিক্ষক নিজের বাড়িতে রেখেছেন মর্মে আইসিটি শিক্ষকের অভিযোগ।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষক সুপ্রভা দাশ বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ রয়েছে। তবে বর্তমানে সেগুলো কোথায় আছে, তা তিনি জানেন না। সম্ভবত প্রধান শিক্ষক তার বাসায় রেখেছেন।বিদ্যালয়ে প্রজেক্টর থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ইসমত আহমদ বলেন, অল্প কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন স্কুল চলাকালীন কোচিং করানো উচিত নয়। এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবত পঞ্চম প্রেণির ৬০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির ৫০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণির ৪০ ও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থাকে ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকদের
অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। উপরোক্ত
বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র সরকার বলেন, অভিযোগগুলো আগে জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবী অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।