মোঃ কামাল হোসেন প্রধান জেলা প্রতিনিধি নরসিংদীঃ নরসিংদীর পলাশে নিখোঁজের তিন দিন পর শাহজাহান তালুকদার (৭৫) নাম এক বৃদ্ধার সহ,পা ও লিঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। অদ্য ৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং শুক্রবার দুপুরে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার (কারখানা) ফার্টিলাইজার পিএলসির ভেতরে একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে এ মরদেহটি উদ্ধার করেন পুলিশ। নিহত শাহজাহান ঘোড়াশাল পৌরসভার ভাগ্যেরপাড়া এলাকার আহম্মদ তালুকদারের ছেলে।পুলিশ জানিয়েছেন নিহতের দুই হাত,পা ও এবং পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,কয়েক দিন আগে তাকে হত্যা করে মরদেহটি গুম করার উদ্দেশে এ নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়,সকালে কারখানা এলাকার মন্দিরের পাশে কাজ করার সময় কয়েকজন ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয়ের এই ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা কারখানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন শাহজাহান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।গত শুক্রবার তার ছেলে আল আমিন তালুকদার পলাশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে বাবার মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। আল আমিন তালুকদার বলেন, গত দুই বছর আগে বাবার মাথায় টিউমার হয়েছিল। তখন মানসিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা করানোর পর তিনি সুস্থ ছিলেন। গত এক মাস ধরে আবার সমস্যা দেখা দেয়। তিনি কাউকেই চিনতে পারতেন না। গত বৃহস্পতিবার কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে তাকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর অবশেষ থানায় জিডি করি।
তিনি আরো বলেন, দুপুরে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। খুবই নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের কোনো শত্রু নেই। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, বুঝতে পারছি না। আমি বাবা হত্যার বিচার চাই। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পলাশ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহেদ আল মামুন বলেন,নিহতের হাত ও পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে ,প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার জন্য নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে জন্য পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসন কাজ করছেন।