সিলেট জেলা বিশেষ প্রতিনিধি
দিনের আলো ফুটতেই সোনাই নদী থেকে বালু পরিবহনের ব্যস্ততা, আর রাত গভীর হলেই শুরু হয় পাথর পরিবহনের তোড়জোড়। একের পর এক ট্রাক্টর ও ট্রলি ছুটে চলে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে। ভারী যানবাহনের অবিরাম চলাচলে একসময়ের পাকা সড়ক এখন পরিণত হয়েছে খানাখন্দে ভরা ঝুঁকিপূর্ণ পথে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ চিত্র সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নভাগী গ্রামের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় সোনাই নদী থেকে বালু এবং রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্রামের সড়ক। এসব ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও উঠে গেছে ইট, আবার কোথাও ভেঙে গেছে পাকা অংশ। সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ধুলাবালি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত ১২টার পর থেকে ট্রাক্টর ও ট্রলিতে পাথর পরিবহনের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। একটির পর একটি ভারী যান পাথর নিয়ে গ্রামের সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ভোর পর্যন্ত চলে এই পরিবহন কার্যক্রম। অন্যদিকে, দিনের বেলায় সোনাই নদী থেকে বালু পরিবহনেও একই সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সড়কটিতে ভারী যানবাহনের চাপ অব্যাহত থাকে।
স্থানীয়দের মতে, সরু গ্রামীণ সড়কগুলো ভারী যানবাহনের এমন চাপ সহ্য করার উপযোগী নয়। তারপরও নিয়মিত ট্রাক্টর ও ট্রলির চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক চলাচলের পথ দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সাত থেকে আটটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচলেও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি।
সড়কের বড় বড় গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় যানবাহন ভারসাম্য হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, ধুলাবালির কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং দৃষ্টিসীমা কমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের। সড়কের এমন অবস্থায় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।
স্থানীয়দের দাবি, বালু-পাথর পরিবহনে ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি সড়কটি ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নভাগী গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।