পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস , জেলা প্রতিনিধি (গোপালগঞ্জ)
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের লোহারংক খাল দখল করে কাচা—পাঁকা বাড়ি ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বাসবাস করছেন প্রভাবশালী একদল গ্রামবাসী। প্রশাসন মাঠে নেমে দখলকৃত খাল সনাক্ত করলেও এখন পর্যন্ত দখলদারদের উচ্ছেদ করেনি। এ নিয়ে এলাকার জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে জানাগেছে, লোহারংক গ্রামের প্রভাবশালী মনির বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাস, বাবুল মোল্লা, ইমারত মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া, সেকেন্দার দাড়িয়া, আউয়াল দাড়িয়া, মানির দাড়িয়া, কাসেম দাড়িয়া, ইব্রাহিম দাড়িয়া, কিবরিয়া বিশ্বাস, রতন দাসসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ প্রায় ১কিলোমিটার দৈর্ঘ একটি সরকারি খাল ভরাট করে দখল করে নিয়েছেন। দখলকৃত এই জায়গার উপরে কাচা—পাঁকা বাড়ি ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।
সম্প্রতি খালটি দখলমুক্ত করার জন্য লোকারংক গ্রামের ফরিদ দাড়িয়াসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি বাদী হয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কার্যালয়ে আবেদন করেন। এই আবেদনের পর খালটি উদ্ধারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মাঠে নামে।
গত কয়েকদিন ধরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে খালটি শনাক্ত করলেও এখন পর্যন্ত খালটি দখলমুক্ত করতে পারেনি। কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও খালটি দখলমুক্ত না হওয়ায় আবেদন কারীদের মনে নানা ধরণের প্রশ্নের দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আবেদনকারী ফরিদ দাড়িয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে লোহারংক খাল দখল করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘরবাড়ি তুলে দখল করে আসছে। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই গ্রামটিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাই আমরা গ্রামবাসি মিলে খালটি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আবেদন করি। আমাদের আবেদনের পর জেলা উপজেলা প্রশাসনের লোকজন মেপে খালটি শনাক্ত করে লাল নিশান গেড়ে দিয়েছে। এরপর কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত খালটি দখলমুক্ত করতে পারেনি।
দখলদার মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া বলেন, আমার দলিলের জায়গার উপর দিয়ে গ্রামের লোকজন সরকারি রাস্তা নিয়ে আমাকে খালের জায়গা দিয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা আমাকে ছেড়ে দিলে আমি খালের জায়গা ছেড়ে দিবো।
অপর দখলদার মনির বিশ্বাস বলেন, খালের জায়গা দখল করে আমি বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছি। প্রশাসন থেকে আমাকে যখন বলা হবে আমি তখন খালের জায়গা ছেড়ে দিবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ—উল—আরেফীন বলেন, খালটি মেপে জায়গা নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে। পরবর্তীতে উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।