স্টাফ রিপোর্টার: বানিয়াচংয়ে ইউপি সদস্য ইনচাব আলীর নির্দেশে দোকানঘর নির্মাণের মাধ্যমে দখল করে নেয়া সরকারি ভূমিটি এখনও দখলমুক্ত করতে পারেননি বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন। এনিয়ে ওই ইউপি সদস্যের ক্ষমতার উৎস এবং প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, চলতি বছরের গত ৩০ জুলাই মিনাট গ্রামের ইউপি সদস্য ইনচাব আলীর নির্দেশে উপজেলা সদরের ২নম্বর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত তোপখানা মৌজার ১নং খতিয়ানের আরএস ২০৪ নং দাগের একটি সরকারি পুকুর পাড়ে মাটি ভরাট করে ৪টি দোকানকোটা নির্মাণের কাজ চালানো হয়। এসময় স্থানীয় পাইকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আপত্তি জানালে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালানোসহ মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। পরে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। তাছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকারি ভূমি দখলের বিষয়ে ইউপি সদস্যসহ তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথীর মৌখিক নির্দেশে নির্মাণাধীন দোকানের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তাছাড়া কাগজাদি যাচাই করে সহকারী কমিশনার (ভূমির) সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন তিনি। এদিকে
কয়েকদিন পর বদলী হয়ে যান ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথী। পরে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পান বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মেহরাব হোসাইন। তিনিও ইউপি সদস্য দ্বারা সরকারি ভূমি দখলের বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্ত মাসের পর মাস পেরিয়ে যাচ্ছে এখনও ইউপি সদস্য ইনচাব আলীর কবল থেকে সরকারি ভূমি উদ্ধার করতে পারেননি বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন! উল্টো ইউপি সদস্যের নির্দেশে পুনরায় অসমাপ্ত দোকানকোটার কাজ সম্পন্ন করতে তোড়জোড় চালানো হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুধু তাই নয়, ইউপি সদস্যের ক্ষমতার উৎস এবং উপজেলা প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত ইউপি সদস্যের কবল থেকে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী