
মিজানুর রহমান মিলন
বিশেষ প্রতিনিধি।।
অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ায় বড় ভাই সাবেক আর্মি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও ভাতিজা রিজভি আহমেদ শুভর বেধডরক পিটুনিতে হাসপাতালে বেডে মৃত্যুশয্যায় দিন পার করছেন ছোট ভাই রতন মিয়া। এ ঘটনায় রতন মিয়ার স্ত্রী লাইলী বেগম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গেলে অসুস্থ রতন মিয়াকে কাতরাতে দেখা যায়। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা শহরের মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বড় ভাই সাবেক আর্মি সদস্য রফিকুল ইসলামের সাথে ছোট ভাই রতন মিয়া ও তার তিন বোনের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ছোট ভাই রতন মিয়া চাকরি করার সুবাধে দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকায় বড় ভাই রফিকুল ইসলাম সুযোগ বুঝে বাবার কাছে সমস্ত বাড়ি ভিটা তার নামে লিখে নেয়। এর কিছুদিনের মধ্যে রতন মিয়ার বাবা মৃত্যু বরণ করলে খবর শুনে তিনি লালমনিরহাটে চলে আসেন। পরে বসতভিটার ভাগ বাটোয়ার কথাও উঠলে বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বাবা সমস্ত বসতভিটা তার নাম লিখে দিয়েছেন। তখন সে কাগজপত্রও রতন মিয়াকে দেখান এবং সেখান থেকে রতন মিয়াকে বাহির করে দেন।
গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার তিন বোনকে নিয়ে অসুস্থ মাকে দেখতে গেলে বড় ভাই রফিকুল ইসলাম ও ভাতিজা শুভ মিলে রতন মিয়াকে তাদের বাড়িতে যাওয়ায় বেধড়ক মারপিট করেন। এ সময় রতন মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাঁচাতে তার স্ত্রী ও বোন এগিয়ে এলে তাদেরকেও বেধরক মারপিট করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে এলে গুরুতর আহত অবস্থায় রতন মিয়াকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ ব্যাপারে রতন মিয়ার বোন শাবানা বেগম জানান, আমার বড় ভাই সাবেক আর্মি সদস্য রফিকুল ইসলাম ষড়যন্ত্র করে ছোট ভাই রতন মিয়া ও আমাদেরকে ঠকিয়ে আমার বাবার নিকট থেকে সমস্ত বসতভিটা তার নামে লিখে নেয়। আমরা এর প্রতিবাদ করলে বড় ভাই রফিকুল ইসলাম আমাদেরকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে যে আভিযোগ তাহা সঠিক নয়। আমি ছোট ভাই রতকে মারিনি। বাবা আমাকে জীবীত অবস্থায় স্বেচ্ছায় জমি লিখে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান , এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।