ঘোড়াঘাট,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি সাহারুল ইসলাম
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সেবা নিতে আসা শত শত রোগীরা ডাক্তার স্বল্পতার কারনে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও মেলেনি আধুনিক চিকিৎসা সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান আমারদেশকে জানান, ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ৩১ শয্যার যে জনবল কাঠামো থাকা দরকার সেখান থেকেও এখানে কর্মকর্তা কর্মচারীর পদ শুন্য রয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর যে পদ থাকার কথা সেখানে নাই বললেই চলে। ফলে হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থেকে অন্যান্য যে প্রশাসনিক কার্যক্রম তা ব্যহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে যে ডাক্তার ও কনসালটেন্ট থাকার কথা তার মধ্যে ২জন ডাক্তার ও ১জন গাইনী কনসালটেনন্ট রয়েছে। অল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে হাসপাতালটি চালানো দুঃসাধ্য। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিমাসে চিঠির মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগে কর্মরত জহুরুল আলম জানান, ২০২৩সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০শয্যায় উন্নীত করা হয়। নবনির্মিত ভবনের কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ৫০শয্যার জনবল নিয়োগের অনুমোদন মেলেনি। প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবা নেন গড়ে প্রায় ৬০০জন। আন্তঃবিভাগে সেবা নেন ৫০ থেকে ৫৫জন এবং ল্যাবে সেবা নেন ২০ থেকে ২৫জন রোগী। তিনি আরও জানান, জনবল সংকটে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহ ৫জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শুন্য রয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য প্রধান সহকারী ও ষ্টোর কিপারের পদও শুন্য রয়েছে। বর্তমানে ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ও ১জন মেডিকেল অফিসার দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা। শুধুমাত্র ৩১ শয্যার জন্য ১২২ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৭৪টি বাকী ৪৮টি পদ শুন্য রয়েছে। টেকনোলজিষ্ট, জুনিয়র মেকানিক, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, ৪জন ওয়ার্ড বয়, ২জন আয়া, ২জন বাবুর্চির পদ শুন্য রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। উপজেলার বিভিন্নস্থান থেকে সেবা নিতে আসা বলগাড়ীর শাহ আলম, কালুপাড়ার ওসমানগনি, আবিরের পাড়ার খাতিজাসহ অনেকেই জানান, ডাক্তারের সাক্ষাতের জন্য তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। এ ছাড়াও রয়েছে ঔষুধ সংকট, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীকে বাইরে থেকে ঔষুধ ক্রয় করতে হয়। এতে উপজেলার বিপুল সংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠী সরকারী এ চিকিৎসা সেবার কেন্দ্রটিতে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে শহরের হাসপাতাল, কিনিক ও এলাকার হাতুরে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে আর্থীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এভাবেই স্বাস্থ্যসেবার নামে ভোগান্তিতে পড়ছে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সাধারন রোগীরা। ভুক্তভোগীরা মনে করেন অতি দ্রুত ডাক্তারসহ অন্যান্য শুন্য পদে নিয়োগ দিলে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে ও সেই সাথে ভোগান্তিও কমে আসবে।৩১-৮-২৫