
আশরাফ উদ্দীন, জেলা বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ পর্যটন এলাকার ১০ নম্বর ঘাট সংলগ্ন পর্যটন বাজারটি স্থানান্তরের জোর দাবি উঠেছে। দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন থাকায় বাজারটি যেমন আনন্দ ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নানামুখী নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলাগঞ্জ পর্যটন বাজারটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১২৪৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন জিরো লাইনের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে অচেনা ও নতুন পর্যটকেরা অসাবধানতাবশত প্রায়ই ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করছেন। সীমান্তে দায়িত্বরত ১০ নম্বর ঘাট বিজিবি পোস্ট ক্যাম্প ও বাজারে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীরা পর্যটকদের সতর্ক করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি অনেক সময় পর্যটকেরা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলছেন, যা দুই দেশের জন্যই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জিরো লাইনের কাছেই গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারকৃত বালু ও পাথর দিয়ে পর্যটন বাজার এলাকা ভরাট করা হচ্ছে। বাজারের দক্ষিণ দিকে একটি সুবিশাল খোলা মাঠ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু পার্কিং ব্যবস্থা ও সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে বাজারটি ওই মাঠে স্থানান্তর করা জরুরি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার ঘোষিত ২৪ তম স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাজারটি জিরো লাইনে অবস্থান করায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পর্যটকদের ভিড়ে কে ভারতীয় আর কে বাংলাদেশি তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতিতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে।
ভোলাগঞ্জ পর্যটন বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বাজারটি দ্রুত স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
কোম্পানীগঞ্জ চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় অবাধে দুই দেশের নাগরিক চলাচল করছে এবং মাদকদ্রব্য প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে রাতে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার স্থানান্তর করা হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমবে।
এ বিষয়ে ভোলাগঞ্জ পর্যটন বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করে বাজার স্থানান্তরে একটি বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।