
ঘোড়াঘাট দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
টর্চ লাইটের ঝলকানিই বাঁচিয়ে দিল এক অটোরিকশা চালকের প্রাণ। ছিনতাই করে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির টর্চের আলো দেখে ভয় পেয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। চালক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রামেশ্বরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সঙ্গে থাকা আরও দুই ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীর নাম মোস্তফা মিয়া ওরফে মোস্তা (৫৬)। তিনি উপজেলার কুন্দারামপুর এলাকার বাসিন্দা। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে যাত্রী সেজে উপজেলার ডুগডুগি বাজার থেকে রাণীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার কথা বলে তিনজন ছিনতাইকারি একটি অটোরিকশায় ওঠে। পথিমধ্যে রামেশ্বরপুরের নির্জন স্থানে পৌঁছালে তারা চালককে জিম্মি করে অটোরিকশা ছিনতাই করে। তাদের মধ্যে একজন অটো রিক্সাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় অন্য দুজন ছিনতাইকারী চালককে রাস্তার পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গলায় ও পেটে ছুরি ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর তাদের মধ্যে একজন পাকা সড়কের দিকে উঠতেই চালকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় ছুরিকাঘাতে চালক আহত হন। পরে দুই ছিনতাইকারী মিলে তাকে ধানক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের ধানক্ষেতে সেচ দিতে থাকা এক স্থানীয় ব্যক্তি টর্চ লাইট জ্বালিয়ে এগিয়ে এলে আলোর ঝলকানিতে ভয় পেয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ততক্ষণাৎ ঐ দুই ছিনতাইকারীর মধ্যে অপর একজন ছিনতাইকারি পালিয়ে গেলেও চালকের সাহসিকতায় আরেকজনকে ধরে ফেলেন তিনি। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ধৃত ছিনতাইকারীকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছিনতাইকারিকে গ্রেপ্তার করে।
আহত চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানা-র অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানান, ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধারে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় চালক বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার আসামিকে রোববার আদালতে পাঠানো হবে।
১৫-২-২৬