
মারুফ আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক অসহায় বিধবা নারীর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল ভূমিখেকোর বিরুদ্ধে। জমিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
জানা যায়, উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের মৃত ইউছুব আলী ১৯৭৩-৭৪ সালে ১.৫০ একর (এক একর পঞ্চাশ শতক) জমি বন্দোবস্ত নেন। ৬১নং জেএল স্থিত ঠাকুরবাড়ী মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ৮৬নং দাগের এই জমিতে তিনি জীবদ্দশায় নিজে ও বর্গাদারদের মাধ্যমে চাষাবাদ করতেন। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও ছেলে হারুনুর রশিদের নামে ১.৫০ (এক একর পঞ্চাশ শতক) রেকর্ড হয় এবং তাঁরাও দীর্ঘকাল ধরে এটি ভোগদখল করে আসছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে ওই ভূমির সীমানা নির্ধারণপূর্বক বাঁশের খুঁটি ও লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু একই গ্রামের ছালেক আহমদ, মইন উদ্দিন, রেহান আহমদ, মরম আলী, নজরুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, আব্দুর রব সংঘবদ্ধ হয়ে সীমানার লাল পতাকাসংবলিত খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলে। এরপর তারা বেআইনিভাবে জমিটি জবরদখল করে ধানের চারা রোপণ করে।
ভুক্তভোগী পরিবার তাদেরকে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো ভুক্তভোগীরা জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে দখলদাররা দা, শেল, শুলফি ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত এই ১.৫০ (এক একর পঞ্চাশ শতক) ভূমি জবরদখলকারীদের হাত থেকে উদ্ধার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত প্রতিবেদন ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, মরম আলী ১৪৮ নং জাল দলিলে ৩৫ শতক জায়গা বীরমঙ্গল হাওর ঠিকানায় ভুয়া দলিল দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে পায়তারা করছেন।
এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই বিধবা নারী ও তার পরিবার। দ্রুত জমি উদ্ধার ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে অভিযুক্তদের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করার চেস্টা করে ফোন না ধরায় তাদের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।