
এ কে আজাদ সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি:।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বসতভিটা ও পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এক বৃদ্ধা নানিশাশুড়িকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার নাতি-জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিতারা বেগম (৬১) বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন জৈন্তাপুর উপজেলার ডৌডিক গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে জাকির হোসেন (২৬), তার ভাই নয়ন মিয়া (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫ নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামের মৃত আখলাকুল রহমান (দুদু মিয়া)-এর স্ত্রী সিতারা বেগমের কোনো ছেলে সন্তান নেই। প্রায় ১২-১৩ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার আগের সংসারের মেয়ে সালেহা বেগমকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, সালেহা বেগমের মেয়ের স্বামী জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সিতারা বেগমের স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে।
সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে জাকির হোসেন, তার ভাই নয়ন মিয়াসহ একদল দুর্বৃত্ত সিতারা বেগমের বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় তারা তাকে গালিগালাজ করে এবং জোর করে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে জাকির হোসেন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তলপেটে একাধিক লাথি মারেন এবং পরে কাপড় দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ সময় তার সহযোগীরা তাকে শ্লীলতাহানিও করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃদ্ধার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সিতারা বেগম চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগী সিতারা বেগম বলেন, আমার কোনো ছেলে নেই। এই সুযোগ নিয়ে আমার নাতিন জামাই আমার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখল করতে চায়। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
বর্তমানে তিনি অভিযুক্তদের হুমকির মুখে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।