
সাহারুল ইসলাম ঘোড়াঘাট দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদকের কেনাবেচা চললেও মূল কারবারিরা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালালেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার না করায় মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না।
অভিযানের চিত্র: ৯৫ শতাংশই সেবনকারী
গত কয়েক মাসে ঘোড়াঘাট থানা-পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯৫ শতাংশই মূলত ছিঁচকে সেবনকারী। অভিযানে কারো কাছে সামান্য গাঁজা বা কয়েকটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাওয়া গেলেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। অথচ ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিলের মতো মাদকের বড় বড় চালান প্রতিনিয়ত ঢুকছে, যার মূল হোতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
চার ইউনিয়নে শক্তিশালী সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বুলাকীপুর, পালশা, সিংড়া, ঘোড়াঘাট সদর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সুনির্দিষ্ট মাদক স্পট রয়েছে। এলাকাভিত্তিক মাদক বিক্রেতাদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যাদের হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরনের মাদক। এই অবাধ বিস্তারের কারণে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও হতাশা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “পুলিশ কোন এলাকায় কারা মাদক ব্যবসা করছে তা ভালো করেই জানে। কিন্তু বড় ডিলারদের বাদ দিয়ে শুধু চুনোপুঁটি বা সেবনকারীদের ধরায় মাদকের ব্যবসা কমছে না, বরং দিন দিন বাড়ছে।” বড় ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় না আনা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “পুলিশের অভিযানে কোনো পক্ষপাত নেই। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং তথ্য পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মূল কারবারিদের ধরার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।”
সচেতন মহলের দাবি: মাদকমুক্ত ঘোড়াঘাট গড়তে হলে চুনোপুঁটি ধরার মানসিকতা পরিহার করে অবিলম্বে মূল মাদক সম্রাটদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।