1. live@khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ : খবরের কণ্ঠ
  2. info@www.khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মাধবপুরের ছাতিয়াইনে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৬শ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার লালমাইয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন: নরসিংদীর শিবপুরে গাছের চারা রোপণের শুভ উদ্বোধন করেন নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইয়াসমিন। গোপালগঞ্জ জেলায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন” বাগেরহাটে জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে হয়রানি মূলক মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। দৈনিক খবরের কন্ঠ পত্রিকায় মোজাফফর আহমেদকে স্টাফ রিপোর্টার নিয়োগ প্রদান বাহুবলে মাদকসেবীর উচ্ছৃঙ্খলতার অপরাধে রমজান আলীকে ১বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। হবিগঞ্জ,সিলেট মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতির দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি। বাহুবলে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটায় ইউপি সদস্য শামীমকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান। নবীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ,র‍্যাবের অভিযানে সিলেট থেকে তুহিন গ্রেফতার।

মেহেরপুরের নারীরা পুঁইশাক উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৫০ বার পড়া হয়েছে

 

মোস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুরঃ

পুঁইশাক বাংলাদেশের প্রতিটা পরিবারেই একটি জনপ্রিয় শাক। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটা হাট বাজারেই সারা বছর ধরে এ শাক বিক্রি হয়ে থাকে। তেমনি ভাবে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটা বাড়ির উঠানে এ শাক লাগিয়ে থাকেন। মা বোনেরা বাঁশের মাচা, ঘরের কার্নিশে কিংবা টিনের চালে তুলে দেন। পুঁইশাক উৎপাদনে মেহেরপুরের নারীদের ভূমিকা কিন্তু কম নয়। কারণ উৎপাদিত শাক থেকে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে পরবর্তী বছরে উক্ত বীজ থেকে আবারও পুঁইশাকের চারা তৈরি করে তা রোপণ করে থাকে। কিছু দিনের মধ্যেই খাবার উপযোগী হলে সেটা কর্তন করে রান্না করে থাকে। কর্তনকৃত অংশ থেকে আবারও কয়েকটি কুশি বেরিয়ে ফলন আরও বৃদ্ধি করে।
এসব শাক পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিনামূল্যে দিয়ে থাকেন মা-বোনেরা। কেউ কেউ গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রিও করেন। এ থেকে অর্থনৈতিক ভাবে মা-বোনেরা স্বাবলম্বী হয়ে থাকেন। শুধু পুঁইশাকই নয় শাকের কাঁচা-পাকা বীজও (মুচড়ি) ভালো দামে বিক্রি করেন।
হাটবাজারের মতো পাড়ার লোকজনের কাছেই বিক্রি করা হয়।
বর্তমান বাজারে পুঁইশাক ২০ টাকা কেজি, মুচড়িসহ শাক ৩০-৪০ টাকা এবং শুধুমাত্র মুচড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। তবে পাঁকা মুচড়ি বিক্রি হচ্ছে ১’শ টাকা কেজি দরে। এমন দৃশ্য মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার সকল এলাকায় চোখে মিলবে।
শুধু বাড়িতেই নয় মাঠেও অনেকে শাক বিক্রির জন্য এ চাষ-আবাদ করে থাকেন। কেউ বীজ উৎপাদন, কেউ আবার শাক বিক্রির পর মুচড়িও বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
বাড়ির উঠানে নয় বরং মাঠে বাঁশের মাচায় স্বল্প জমিতে পুঁই শাকের আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এমন একজন কাতার প্রবাসী রবিউল ইসলামের খোঁজ পাওয়া গেছে। যিনি মাত্র ৬ কাঠা জমিতে পুঁই শাকের আবাদ করে এ পর্যন্ত শাক বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকার। পৌষের শীত শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিক্রি করতে শুরু করেছেন পুঁই শাকের মুচড়ি। ইতিমধ্যেই ৩ হাজার টাকার মুচড়ি বিক্রি করেছেন। আগামী ২ মাসে আরও ৩০ হাজার টাকার মুচড়ি বিক্রি হবে বলে, তিনি জানান।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সরেজমিনে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাইলমারী ফেলারচড়া মাঠে গিয়ে দেখা মেলে রবিউল ইসলাম ও তাহার সহধর্মিণী শর্মিলা খাতুনের পুঁইশাকের মুচড়ি, শিম ও বেগুন তোলার দৃশ্য।
রবিউল জানান, কাতার থেকে ফিরে কোন এক কৃষকের পরামর্শে শুরু করেন লাভজনক এ পুইঁ শাকের আবাদ। ১ হাজার টাকা কেজি দরে ভাটপাড়া বাজার থেকে হাইব্রিড জাতের পুঁই শাকের বীজ কিনে হালচাষ দিয়ে জমিতে শুরু করেন এ আবাদ। গত ৪ মাস ধরে পুঁই শাক বিক্রি করেছেন প্রায় ৩০ হাজার টাকার। এখন শুরু করেছেন পুঁইয়ের মুচড়ি বিক্রি। তিনি জানান, মাঝে মধ্যে কিছু সার, কয়েকটি সেচ আর সপ্তাহে ২/১ বার কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া আর কিছু প্রয়োজন হয়না এই আবাদে। তবে পুঁই শাকের গাছ উপরে তুলতে মাচা তৈরিতে কিছু খরচ রয়েছে। এতেই অনায়াসে চলছে তাহার সংসারের যাবতীয় খরচা। তিনি আরো জানান, পুঁইশাক উৎপাদন খুবই লাভজনক। বর্তমানে পিঁয়াজ ও ফুলকপির আবাদ করে যেসব কৃষক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন তাহারাও ঐসকল আবাদ বাদ দিয়ে পুঁই শাকের আবাদ করে দেখতে পারেন লাভের মুখ। পুঁইশাকের আবাদে গাছের যত্ন, শাক কর্তন, মুচড়ি ছাড়ানোসহ রবিউলকে সকল ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন, স্ত্রী শর্মিলা খাতুন।
শর্মিলার সাথে কথা হলে তিনি জানান, স্বামী বিদেশ থেকে ফিরেই এই আবাদ শুরু করেন। জমি বাড়ির নিকটে হওয়াতে দু’জনেই পুঁইশাকের গাছের পরিচর্যা করে থাকেন। শুধু পুঁই শাকই নয় এখানে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে শিম, পটল এবং জমির চারিপাশ দিয়ে বেশ কিছু বেগুনের। যা থেকে সংসারে সবজির চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে।
শর্মিলা আরো জানান, নিজ পরিকল্পনাতেই তারা এই চাষাবাদ করে থাকেন। যদি কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়। তাহলে আরও বেশি স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট