
মীর দুলাল।। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় কাটার মহা উৎসব। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন কেটে নেওয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক পাহাড়। খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেলে কাউকেই পাওয়া যায় না। আর প্রশাসন ফিরে গেলেই রাতের আঁধারে ফের শুরু হয় পাহাড় নিধনের উৎসব। সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের বালিদ্বাড়া ও নারাইন্দি এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে একাধিক পাহাড় কেটে সমতল করার অভিযোগ উঠেছে। এক্সকাভেটর ও ডাম্পট্রাক ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে পুকুর ভরাট ও প্লট তৈরির কাজে। স্থানীয়দের দাবী, এটি একটি সংঘবদ্ধ পাহাড়খেকো চক্রের কাজ। এই পাহাড়খেকোদের চিহ্নিত করতে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করলে বেরিয়ে আসে পাহাড়টির মালিক হিসেবে পরিচিত দেবপাড়া ইউনিয়নের (৭নং ওয়ার্ড) এর মৃত শুকুর উল্লাহর পুত্র লন্ডনপ্রবাসী সালাম মিয়া, পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রির কাজে জড়িত একই এলাকার ওয়াহাব উল্লার পুত্র সেলিম মিয়া, এক্সভেটর দিয়ে প্রতিদিন রাতভর পাহাড় কেটে ট্রাকে করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী। প্রশাসন গেলেও থামছে না পাহাড় কাটা এলাকাবাসীরা জানান, একাধিকবার পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলেও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। দিনের বেলা প্রশাসন উপস্থিত হলে শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলা হয়। আর প্রশাসন চলে গেলেই রাতের অন্ধকারে পুনরায় শুরু হয় পাহাড় নিধন। স্থানীয়রা দাবী করে বলেন, পাহাড় কাটার প্রভাব পড়েছে সরকারি অবকাঠামোর ওপরও। পাহাড় ঘেঁষে যাওয়া আরসিসি ঢালাই সরকারি সড়ক একাধিক স্থানে ভেঙে গেছে। ভারী এক্সভেটর ও ট্রাক চলাচলে সড়কের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশের ড্রেইনগুলো পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে গেছে। পাহাড়ি পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভূমিধস ও সড়কে ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা স্পষ্ট অপরাধ। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী- পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের লিখিত ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় বা টিলা কাটা বেআইনি। উচ্চ আদালতের একাধিক রায়ে বলা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় হলেও তা কাটার কোনো আইনগত অধিকার নেই। দণ্ডবিধি ও পরিবেশ আইনে শাস্তি, জরিমানা, কারাদণ্ড, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পাহাড় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ তবুও এসব আইন যেন বালিদ্বাড়ায় কাগজেই সীমাবদ্ধ প্রশ্ন তুলছে এলাকাবাসী। পরিবেশ ধ্বংসের দায় নেবে কে? এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে, এক্সভেটর ও ট্রাক জব্দ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি রাস্তা ও ড্রেইন সংস্কার করতে হবে, নইলে এই পাহাড় নিধন একদিন ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে রূপ নেবে, যার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এব্যাপারে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম বলেন, পাহার কাটার বিষয়টি আমি অবগত নয়। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।