
পলাশ বিশ্বাস ,জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে পালিত হচ্ছে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫ তম আবির্ভাব দিবস। সারা দেশ হতে হাজার হাজার ভক্তের সমাবেশে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো ওড়াকান্দি। ভক্তরা দূর দূরান্ত থেকে ডাঙ্কা বাজিয়ে কীর্তন করে নিজেকে আনন্দে মাতোয়ারা করে হরি ঠাকুরের মন্দিরে উপস্থিত হয়েছেন । পুণ্য স্নান থেকে ভক্তরা শান্তি লাভের আশায় পাপমুক্ত হবার অভিপ্রায় পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে স্নান করেন । অসংখ্য ভক্ত শুদ্ধ পবিত্র হয়ে হরির নাম সংকীর্তন করছেন এবং পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের কাছে নিজেদের ভালো থাকার জন্য প্রার্থনা করছেন। অসংখ্য ভক্ত পুণ্য লাভের আশায় অভুক্ত থেকে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে চারপাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছেন । মন্দিরের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায় , এই পূর্ণ তিথিতে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে ও অনেক ভক্ত পুণ্য লাভের আশায় উপস্থিত হয়েছেন । সূত্রমতে জানা যায়, হরিচাঁদ ঠাকুর পূর্ণব্রহ্ম রূপে ১৭১১সালে গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । নমঃশূদ্র সম্প্রদায়কে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করিয়ে দেওয়ায় হরিচাঁদ ঠাকুরের অবদান অপরিসীম । সোমবার (১৬মার্চ ২০২৬ )তারিখ সকাল হতেই ভক্তরা ওড়াকান্দিতে আসতে থাকে । কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সোমবার ১৬ মার্চ হতে মঙ্গলবার ১৭মার্চ দুই দিনব্যাপী এই পুণ্য স্নানও বারনী অনুষ্ঠান চলমান থাকবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পুণ্য স্নান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসন ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে । গোপালগঞ্জ ১ও ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম ও ডাঃ কে এম বাবর সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছেন । পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাব আরিফ -উজ -জামান (উপসচিব ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ) ও গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ , কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ শাহিন মিয়া নিরলস পরিশ্রম করেন পুণ্য স্নান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদনের জন্য।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে পুণ্য স্নান সম্পন্ন হচ্ছে ।
পুণ্য স্নানকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী জমজমাট মেলা শুরু হয়েছে যা স্নান কার্য শেষ হবার পরেও দুই থেকে তিন দিন চলমান থাকবে।