1. live@khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ : খবরের কণ্ঠ
  2. info@www.khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
গোপালগঞ্জে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন স্বামী। ঝিনাইদহ ছাত্রদলের পক্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পানি-বিস্কুট বিতরণ। অসহায় রোগীর পাশে গোয়াইনঘাট প্রবাসী সমাজকল্যাণ পরিষদ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন। গোপালগঞ্জে হাম- রুবেলা ক্যাম্পেইন-উদ্বোধন গোপালগঞ্জে আ: লীগের বন,পরিবেশ সম্পাদিকাকে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন সংরক্ষিত নারী আসনে কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তারকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। পানছড়িতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গন সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত লালমাইয়ে হাম- রুবেলা টিকা প্রদানের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত ফটিকছড়িতে অকটেনের আগুনে দগ্ধ ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারের মৃত্যু

মোহনগঞ্জ ঠিকাদারের দায়িত্বে সরকারি চাকরিজীবি প্রইমারী স্কুলে শিশুদের খবারে অনিয়ম।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

 

মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্কুলে সরকারিভাবে ঠিকাদারের মাধ্যমে বিতরণকৃত খাবারে সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম, কোন কোন দিন ডিম ও কলা দেওয়াই হয়নি। ফলে শিশুরা এসব পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

আজ বৃহস্পতিবার পৌরশহর ও উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে টিফিনের খাবার বিরতণ শুরু করা হয়। এসব বিদ্যালয়ে ১৩ হাজার ৩৫৭ শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচদিন রুটি, সিদ্ধ ডিম, দুধ ও স্থানীয় মৌসুৃমী ফল দেওয়ার কথা। ঢাকার সততা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজের দায়িত্ব পায়। তবে মোহনগঞ্জ এলাকায় ঠিকাদারের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলার পূর্বধলা উপজেলার মো. ওলিউল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। ওলিউল্লাহ ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি করছেন ঠিকাদারিও।

পৌরশহরের দেওথান এলাকার অভিভাবক স্বর্ণা আক্তার বলেন, আমার ছেলে মাইলোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। গতকাল শুধু বনরুটি দিয়েছে। সিদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু দেয়নি। শুনেছি বিকালে ডিম সরবরাহ করেছে ঠিকাদার। আজ বৃহস্পতিবার বনরুটি আর কাঁচা ডিম দিয়েছে।

এ বিষয়ে মাইলোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বলেন, গতকাল বুধবার বিকালে বনরুটি আর ডিম নিয়ে আসে ঠিকাদার। ওই সময় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও খাবার রিসিভ করে উপস্থিত অর্ধেক শিক্ষার্থীকে দিয়েছি। বাকি শিক্ষার্থীদের আজ সকালে কাঁচা ডিম ও বনরুটি দিয়েছি। আজকের খাবার বেলা সাড়ে বারোটায় নিয়ে এসেছিল তাই গ্রহণ করিনি। খাবার পেরত দিয়েছি। যথা সময়ে শিক্ষার্থীদের খাবার স্কুলে পৌঁছানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষি আকর্ষণ করেন তিনি।

উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল জিয়া বলেন, সিডিউল অনুযায়ী আজকে টিফিনে শিক্ষার্থীদের বনরুটি আর সিদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের পক্ষ থেকে শুধু বনরুটি দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধ ডিম দেওয়া হয়নি। গতকালও একইভাবে শুধু বনরুটি দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী যথাযথভাবে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

উপজেলার গলগলি মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৌশিক তালুকদার বলেন, গতকাল আমার বিদ্যালয়ে যেসব রুটি ও ডিম দেওয়া হয়েছে, ওই খাবার অনেক শিক্ষার্থী বমি করেছে। অনেকে অসুস্থ হয়েছে। মানসম্মত খাবার দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এদিকে ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা গৌরিপুরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ওলিউল্লাহ বলেন, আমি আসলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি নই। ঠিকাদার আমার পরিচিত হওয়ায় কাজ দেখাশোনা করতে আসছি। তবে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, স্কুলে খাবার বিতরণ মাত্র দুদিন হলো শুরু হয়েছে। এত ব্যাপক পরিমাণ খাবার সংগ্রহ ও তদারকি করা বেশ কঠিন কাজ। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, খাবার বিতরণে নানা অনিয়ম- অসংগতি বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বসে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। যথাসময়ে খাবার সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এ কাজে লোকবল বাড়াতে বলা হয়েছে। নতুন শুরু করায় এমন সমস্যা হয়েছে, পরবর্তীতে আর এমনটা হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদার।

বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, অনিয়মের বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। সবেমাত্র কাজ শুরু হওয়াসহ নানা অজুহাত থাকলেও যথা সময়ে খাবার সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে সঠিক সময়ে মানসম্মত খাবার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকাদার। ঠিকাদারির দায়িত্বে কোন সরকারি চাকরিজীবী থাকার নিয়ম নেই। ওলিউল্লার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট