
রাহী মিয়া,বিশেষ প্রতিনিধিঃ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা ।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র মাটির রাস্তাটি এখন অত্র এলাকার মানুষের জন্য এক অভিশাপের নাম। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কার বা পাকাকরণের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার গ্রামবাসী। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন-এর কাছে এখন এই রাস্তাটিই গ্রামবাসীর প্রধান প্রাণের দাবি।
ভয়াবহ মরণফাঁদ: কাদা আর ভাঙনে বিপন্ন জনজীবন
সরেজমিনে দেখা যায়, মাহতাবপুর গ্রামের এই মাটির রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বৃষ্টির ছিটেফোঁটা পড়লেই পুরো রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙন দেখা দেওয়ায় যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। সামনেই বর্ষা মৌসুম, আর এই ভেবেই এখন দিশেহারা গ্রামের সাধারণ মানুষ।
গর্ভবতী নারী ও রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই রাস্তার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় জরুরি রোগী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের। ভাঙা রাস্তার কারণে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে অতীতে অনেক গর্ভবতী নারী ও রোগী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, “ডেলিভারি রোগীদের এই রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের যে কষ্ট হয়, তা দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না।”
ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম
রাস্তার বেহাল দশার প্রভাব পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপরও। কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হয়, নষ্ট হয় তাদের বই-খাতা ও পোশাক। ফলে বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুল-মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
১৭ বছরের অবহেলা ও বর্তমান এমপির প্রতি প্রত্যাশা
মাহতাবপুরের বিশিষ্ট মুরব্বি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরে তারা এমপি থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি দপ্তরে বারবার ধরণা দিয়েছেন। আকুল আবেদন জানানো সত্ত্বেও এই অবহেলিত রাস্তার ভাগ্যে জোটেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।
গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়:
”আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর অবহেলিত ছিলাম। এখন আমরা আমাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন মহোদয়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে চাই। বর্ষা আসার আগেই যেন এই মাটির রাস্তাটির কাজ শুরু হয়, এটাই আমাদের জোরালো দাবি।”
মাহতাবপুরবাসীর বিশ্বাস, জনবান্ধব এমপি মহোদয় অতি দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির দিকে নজর দেবেন এবং হাজারো মানুষের বছরের পর বছর বয়ে বেড়ানো এই দুঃখের অবসান ঘটাবেন।