
এম এ আকবর বিশেষ প্রতিনিধি আল্লাহর অলিউল্লাহ্গণ ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ, উঁচুনিচু শ্রেণির মধ্যে বৈষম্য করেন না, সকলের সাথেই সুন্দর আচরণ এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করেন।
বাংলার জমিনে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকা ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক খাতেমুল আউলিয়া গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী ও ১২০তম ‘মহান ১০ মাঘ উরস শরিফ’ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডার শরিফ ‘দরবার-ই গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র গাউসিয়া হক মন্্জিলের ব্যবস্থাপনায় ‘মাইজভাণ্ডার শরিফ শাহী ময়দান’-এ সপ্তম “তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দ.) মাহফিল-২০২৬” গত ১৭ জানুয়ারি রোজ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাওলানা মুহাম্মদ মুজিবুল হক মাইজভাণ্ডারী ও মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় মাহফিলে বক্তব্য রাখেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা কাযী আব্দুল আলীম রেজভী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ, মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আবুল কাছেম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন, মাইজভাণ্ডার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ বশিরুল আলম মাইজভাণ্ডারী ও সাবেক খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম ফোরকানী। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডার শরিফ দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক মন্্জিলের সাজ্জাদানশীন ও ‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহ্ সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)।
মাহফিলে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসীম চৌধুরী, তাজকিয়ার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবু নাসের নুর অন্তুু, নারায়নহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ.ও.ম. ফারুক হোসাইন, ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হুমায়ন কবির মজুমদার, মুনিরুল উলুম বারীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুদ্দীন, মহি উসুন্নাহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী আজম হাশেমী, সমিতিরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস খান, নানুপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ উল্লাহ, আশেকানে আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রিদুয়ানুল হক।
ড. মাওলানা মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ বলেন, গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর জন্মগ্রহণের পূর্ব সময়টি সমগ্র পৃথিবীর জন্য একটি ক্রান্তিকাল ছিল। এরূপ ক্রান্তিলগ্নে আলোর মশাল হিসেবে ‘বেলায়তে মোতলাকা’ দর্শন নিয়ে হুযুর গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর আগমন হয়। ‘বেলায়তে মোতলাকা’ কোনো সাধারণ কিতাব নয়, এটি ইলহামী কিতাব। এই কিতাবটি যুগের প্রয়োজনে অছিয়ে গাউসুল আযম হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীকে দিয়ে লিখানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা কাযী আব্দুল আলীম রেজভী বলেন, অলিউল্লাহ্গণ ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ, উঁচুনিচু শ্রেণির মধ্যে বৈষম্য করেন না, সকলের সাথেই সুন্দর আচরণ এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর সোহবতে এসে বাংলাদেশ, বার্মা, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ফয়েজ প্রাপ্ত হয়ে আল্লাহর অলিতে পরিণত হয়েছেন, তাঁদের মাজারগুলো একেকটা ইসলামী কমপ্লেক্স।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহ-প্রধান, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী এবং উম্মুল আশেকীন মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফজখানার শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মিলাদ-কিয়াম ও তাওয়াল্লোদে গাউসিয়া পরিচালনা করেন বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) রওজা শরিফের খাদেম মাওলানা হাবিবুল্লাহ।