বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মুকসুদপুরে বাসের চাপায় পথচারী নিহত হাজীগঞ্জের রাজারগাঁওয়ে ২০ পিস ইয়াবাসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার। গোপালগঞ্জে পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান” নবীগঞ্জের শ্রীমতপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে কিশোর ও তরুণের কারাদণ্ড। ফটিকছড়িতে অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের ট্যালেন্ট হান্টের পুরস্কার বিতরণ গোপালগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার বি পি এম সেবা পদকে ভূষিত অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য জগদীশপুর রিজার্ভ বনের সেগুন কাঠসহ ভ্যান জব্দ, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ। কোটালীপাড়ায় বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত।
Title :
মুকসুদপুরে বাসের চাপায় পথচারী নিহত হাজীগঞ্জের রাজারগাঁওয়ে ২০ পিস ইয়াবাসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার। গোপালগঞ্জে পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান” নবীগঞ্জের শ্রীমতপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে কিশোর ও তরুণের কারাদণ্ড। ফটিকছড়িতে অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের ট্যালেন্ট হান্টের পুরস্কার বিতরণ গোপালগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার বি পি এম সেবা পদকে ভূষিত অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য জগদীশপুর রিজার্ভ বনের সেগুন কাঠসহ ভ্যান জব্দ, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ। কোটালীপাড়ায় বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত।

গোয়াইনঘাটে অগ্নিকাণ্ডে ৭ পরিবার নিঃস্ব, দুই দিনেও প্রশাসনের খোঁজ নেই!

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে

 

এ কে আজাদ সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি:।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে সাতটি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। তবে ঘটনার দুই দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পাতনী গ্রামের জামাল মুরুব্বির বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ঘরে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে ঘরগুলোতে দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং একে একে সাতটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, কাপড়চোপড়, রান্নার সামগ্রীসহ পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির দলিল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে মৃত সমুজ মিয়ার স্ত্রী বলেন, আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, মানুষের সহায়তায় আমার ছেলের জন্য একটি পাসপোর্ট করেছিলাম। আগুনে সেই পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এখন আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব। খাওয়ার মতো খাবার নেই, পরার মতো কাপড়ও নেই। তিন সন্তান নিয়ে এখন কোথায় যাব কিছুই বুঝতে পারছি না।

অন্যদিকে মানসিক রোগে আক্রান্ত মনজুর আহমদ বলেন, আমি একজন অসুস্থ মানুষ। কেউ সাহায্য করলে সেই সাহায্যেই বউ বাচ্চাদের খাবার জোগাড় করতাম, এখন আমার বসতঘর পুরোপুরি পুড়ে গেছে, আমি এখন কী করবো? এগুলো দেখার মতো কেউ নাই! দুই দিন হয়ে গেল, শাহাবউদ্দিন শিহাব চেয়ারম্যান একবারও দেখতে আসেননি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দুই দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। এমনকি কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বা জনপ্রতিনিধিও ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেননি। তারা বলেন, এমন বিপদের সময় সবার আগে এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো দরকার ছিল প্রশাসনের ও জনপ্রতিনিতিদের, আমরা কোন দেশে বসবাস করি এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর।

এদিকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ২১ তারিখ আমি আগুন লাগার খবর পাই, তখন আমি সিলেট শহরে ছিলাম। গতকাল বাড়িতে ফিরে আসার পরপরই ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে যাই এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখি। আমার সাধ্যমতো আমি তাদের কিছু সহায়তা করেছি। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনারা দ্রুত এখানে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অবস্থা দেখুন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। পাশাপাশি সমাজের সবাইকে অনুরোধ করছি, এই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে যেন সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো, মনজুর আহমদ, কাউসার আহমেদ, আরিফ, মুশাহিদ, জামাল মুরুব্বী, আব্দুল্লাহ এবং মৃত সমুজ মিয়ার পরিবার। অধিকাংশ পরিবারই দিনমজুর হওয়ায় আগুনে সব হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে পুড়ে যাওয়া বসতঘরগুলোর ধ্বংসস্তূপ এবং খোলা আকাশের নিচে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর করুণ চিত্র দেখা যায়।

এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews