1. live@khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ : খবরের কণ্ঠ
  2. info@www.khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
নরসিংদীর একাধিক ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। লালমাইয়ে মাসিক আইন – শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু ছিটকে গিয়ে প্রাণে বাঁচলো শিশু। গোয়াইনঘাট কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন জনবল সংকট কাটিয়ে গ্রাহক সেবায় এগিয়ে গোপালগঞ্জ প্রধান ডাকঘর। সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গঠন: সভাপতি জাফর, সাধারণ সম্পাদক ইমন। জন্ম মৃত্যু নিবন্ধনে ঢাকা বিভাগের শীর্ষে রাজবাড়ীর তিন ইউএনও। ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিবের নিজস্ব কার্যালয় উদ্বোধন। ধারের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ঘরে ঢুকে গরু- বাছুর নিয়ে যায় সুদি মহাজন কালীগঞ্জে জমকালো আয়োজনে ‘শহীদ সোহান স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধন।

আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় জনসেবা-ব্যাহত

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

 

রাহী রহমান আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিশেষ প্রতিনিধিঃ

জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে আলোচনা-উত্তাপ শুরু হয়েছে। সেই হাওয়া এসে লেগেছে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভাতেও। ফেসবুক, চায়ের দোকান, রাজনৈতিক অঙ্গন- সবখানে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- কে হবেন আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার অভিভাবক? এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা থাকার কারণে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা দেখছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরবাসীর কন্ঠে এখন একটাই দাবি-আর নয় প্রশাসক, চাই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আ.লীগ নেতাকর্মীদের নাম প্রকাশ্যে শোনা না গেলেও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। পৌর নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ভেতরেই শুরু হয়েছে নীরব প্রতিযোগিতা।

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নকে ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি দুই ভাগে বিভক্ত করে সাড়ে ৬ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পৌরসভাটি ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইনি ও সীমানা জটিলতার অজুহাতে আজ পর্যন্ত একটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়নি।

২১ বছরে পৌরসভায় ভোট না হওয়া কি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি পরিকল্পিত অবহেলা- এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে বারবার প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে পৌরসভাটি। ফলে পৌরবাসী নিয়মিতভাবেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসক-নির্ভর ব্যবস্থায় নেই জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা।

আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে যাদের নাম ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে তারা হলেন-হেবিয়েট তিনজন প্রার্থী

১/ অ্যাডভোকেট গোলাম কবির,

২/পৌর যুবদলের আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন দিলু।

৩/ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক, ভিপি ফকরুল ইসলাম

তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২১ বছর ধরে প্রশাসক দেখলাম। এবার ভোটের মাধ্যমে মেয়র দেখতে চাই। নির্বাচিত মেয়র ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না। এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ভোটার হয়েছি, কিন্তু পৌরসভায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এবার যদি নির্বাচন না হয় তা হলে সেটা আমাদের সঙ্গে
চরম অবিচার হবে বলে মনে করেন।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আইনি জটিলতার কথা বলে বছরের পর বছর নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন আর কোনো অজুহাত মানি না। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোট ছাড়া জনপ্রতিনিধি আসে না। প্রশাসক আসে-যায়, কিন্তু আমাদের সমস্যা থেকেই যায়।
২১ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা কি এবার গণতন্ত্রের মুখ দেখবে, নাকি আবারও আইনি জটিলতায় পৌরবাসীর ভোটাধিকার ফাইলবন্দি থাকবে- এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে পৌরবাসী। এদিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় পাকুন্দিয়া পৌরসভার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে যা ভোগান্তিতে ফেলেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ওয়ার্ডভিত্তিক রাস্তাঘাট, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পয়োনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশনের মতো জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। ‘গ’ শ্রেণির এই পৌরসভায় ২৮ হাজার ৭৭৩ জন মানুষের বসবাস। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কাজই পৌরসভার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালে আ.লীগ সরকার পতনের পর পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়র ও ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের একযোগে পদ থেকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নির্বাচিত মেয়র না থাকায় পৌর আইন অনুযায়ী মেয়র পদের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং কাউন্সিলর পদে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের। প্রায় দেড় বছর ধরে জরুরি সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে তাদের দৈনন্দিন কাজের পর এই

বাড়তি দায়িত্ব পালন করা বেশ কঠিন। নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, রাস্তা মেরামত, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণসহ জরুরি সেবা কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করছেন তারা। পৌরবাসীর অভিযোগ, তারা ঠিকঠাক সেবা পাচ্ছে না। ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেবা পেতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। নিজ অফিসে কর্মকর্তারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে বাকি যে সময়টুকু • পোরসভার পৌরসভার জন্য দিচ্ছে দিচ্ছেন তা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। বেশ কিছু অভিযোগের কথা স্বীকারও করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, সরকার আমাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। তবে সরকার যদি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয় কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আসে তা হলে কাজে আরও গতি আসবে।

পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, জনগণের মৌলিক সেবায় জনপ্রতিনিধির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিজেদের দফতরে কাজ শেষে যে সময় দিয়ে থাকেন তা পর্যাপ্ত নয়। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব দিলেই জনদুর্ভোগ কমে আসবে মনে করেন পৌরবাসী ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট