
এ কে আজাদ সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি:।
সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাকের নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বঙ্গবীর চেকপোস্ট এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এসব জিরা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক জাকারিয়া হোসেন (৩৪) কে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জব্দকৃত জিরার পরিমাণ ৭৬ বস্তা, যার ব্র্যান্ড ‘কেএস গোল্ড’।
উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। চোরাচালানের উদ্দেশ্যে এসব জিরা ভারত থেকে অবৈধভাবে সরকারের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামানের সার্বিক নির্দেশনায় এবং এসআই (নিরস্ত্র) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা বঙ্গবীর চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান নেন।
এসময় ঢাকা মেট্রো ট-২৪-১৪৯২ নম্বরের একটি বালুভর্তি ড্রাম ট্রাকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ট্রাকটি বালুবাহী বলে মনে হলেও, নিবিড় তল্লাশির একপর্যায়ে বালুর স্তরের নিচে
সুকৌশলে সারি সারি করে লুকিয়ে রাখা জিরার বস্তাগুলো উদ্ধার করা হয়। এতে চোরাচালানকারীদের অভিনব কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আটক জাকারিয়া হোসেন গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ঘোরাগ্রামের বাসিন্দা এবং চমক আলীর ছেলে।
অভিযানে এএসআই আলী আহম্মদ, এএসআই মনির হোসাইনসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আগে থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলাম। সন্দেহজনক একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পর বালুর নিচে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জিরা পাওয়া যায়। চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
চোরাকারবারিরা নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করলেও আমরা সতর্ক রয়েছি। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
উদ্ধারকৃত জিরা ও ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।