
রাহী রহমান-বিশেষ প্রতিনিধি আজমিরীগঞ্জ উপজেলাঃ
স্থান: আজমিরীগঞ্জ,পৌরসভা হবিগঞ্জ।
বিষয়: আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকায় মাদক ও ‘শিলং’ তীরের অবৈধ বিস্তার রোধে জরুরি প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি পৌরসভা নাগরিকদের।
১. বর্তমান প্রেক্ষাপট
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার তরুণ ও যুবসমাজ আজ এক চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের শান্ত ও ঐতিহ্যবাহী এই জনপদে মাদকের নীল দংশন এবং ‘শিলং তীর’ নামক মরণনেশা জুয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর ফলে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম হাহাকার। শিক্ষিত বেকার যুবক থেকে শুরু করে দিনমজুর—সবাই এই মরণফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।
২. চিহ্নিত মাদক ও জুয়ার স্পটসমূহ
এলাকাবাসীর পর্যবেক্ষণ ও তথ্যানুযায়ী, নিম্নোক্ত এলাকাগুলো বর্তমানে মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে:
পয়েন্ট-১: রামকৃষ্ণ মিশন রোড থেকে বাঁশমহাল কালনী নদীর পাড় হয়ে আজমিরীগঞ্জ বাজার ও কিশোরগঞ্জ সীমান্ত এলাকা।
পয়েন্ট-২: আজমিরীগঞ্জ সবজি শেড হতে শুটকি মহাল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা।
পয়েন্ট-৩: লঞ্চঘাট হতে মুন সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকা।
পয়েন্ট-৪: ফিশ ইন্ডাস্ট্রিজ সংলগ্ন এলাকা হতে পাহাড়পুর সড়কের ৪০ নম্বর এলাকা পর্যন্ত।
পয়েন্ট-৫: শরীফ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে আজিমনগর ব্রিজ এলাকা।
৩. সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
পারিবারিক অশান্তি: জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ঘরে ঘরে চুরি, আসবাবপত্র বিক্রি এবং পারিবারিক সহিংসতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুবসমাজের অবক্ষয়: তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ক্ষতির কারণ।
নিরাপত্তাহীনতা: মাদক বিক্রেতা ও এজেন্টদের দাপটে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না, ফলে এলাকায় জনরোষ ও ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
৪. প্রশাসনের প্রতি দাবি
দীর্ঘদিন যাবত এই অপতৎপরতা চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক অভিযান দৃশ্যমান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষায় নিম্নোক্ত দাবি জানানো হচ্ছে:
চিহ্নিত স্পটগুলোতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান: অবিলম্বে উল্লেখিত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও ডিবি অভিযান জোরদার করতে হবে।
শিলং এজেন্টদের গ্রেফতার: যারা পর্দার আড়ালে থেকে ‘শিলং তীর’ বা ডিজিটাল জুয়া পরিচালনা করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
পৌর এলাকার কিছু মানুষের কাছ থেকে জানা যায় প্রভাবশালী নেতাদের ইশারায়
চলছে ইয়াবা ও শিলং তীর ভয়ে কারো মুখ খুলছে না।
নৈশ টহল বৃদ্ধি: রাত বাড়ার সাথে সাথে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে, তাই রাতে নিয়মিত টহল নিশ্চিত করতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
উপসংহার:
আজমিরীগঞ্জের মাটি ও মানুষকে এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই সামাজিক অবক্ষয় অচিরেই এক ভয়াবহ অরাজকতার জন্ম দেবে। আমরা আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি ।
বিনীত,
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার সচেতন নাগরিক সমাজ।