1. live@khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ : খবরের কণ্ঠ
  2. info@www.khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ :
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চুনারুঘাটে র‍্যাবের অভিযানে কালভার্টের নিচে থেকে দেশীয় শটগান ও কার্তুজ উদ্ধার। মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ। নরসিংদীর শিবপুরে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা‌ উপজেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাধবপুরে এলজিইডির রাস্তার মাটি বিক্রির অভিযোগ বাগেরহাটে ৭টি অবৈধ ইটভাটার ৪ লাখ কাঁচা ইট ধ্বংস দিনাজপুরের খানসামায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত। গোয়াইনঘাটে ড্রিম সানসেটের নতুন শাখা উদ্বোধন, ২০০ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ। কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ ঘোড়াঘাটে ৩০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভরসা কেবল একজন ফার্মাসিস্ট ঘোড়াঘাটে ২৬শে মার্চ উপলক্ষে প্রস্তুতি মুলক সভা ও দূর্যোগ বিষয়ক র‍্যালী অনুষ্ঠিত। 

বিরামপুরে সাপের কামড়ে টিন মিস্ত্রীর মৃত্যু।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

 

মো:আনোযারুল কবীর স্বপন
দিনাজপুর বিরামপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের চকদূর্গা গ্রাম বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। ইঁদুর নিধনের জন্য গর্তে গ্যাস ট্যাবলেট দিতে গিয়ে বিষধর সাপের কামড়ে মারা গেছেন ৫৫ বছর বয়সী মুক্তার হোসেন, এলাকায় একজন টিন মিস্ত্রী হিসাবে পরিচিত ছিলেন।
এলাকাবাসির বরাত দিয়ে জানা যায়, সকালে বাড়ির দেয়ালের ধারে ইঁদুরের গর্তে গ্যাস ট্যাবলেট দিতে গিয়ে গর্তে থাকা সাপ তাকে কামড় দেয়। হঠাৎ ব্যথা অনুভব করে আতঙ্কিত মুক্তার চিৎকার করেন। পরে নিজে গোসল করে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করে ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর চোখে ঝাপসা দেখা দিলে দ্রুত তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসক অবস্থা গুরুতর দেখে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
মুক্তার হোসেন ছিলেন মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। পরিশ্রমী এই টিন মিস্ত্রী দিনমজুরির মতো খাটাখাটনি করে সংসার চালাতেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে—সম্পূর্ণ পরিবারই তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবার এখন দিশেহারা। শোকে কাতর স্ত্রী বারবার বলছিলেন, “এখন আমাদের দেখবে কে?”মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, মুক্তার ভাই ছিলেন শান্ত ও সৎ মানুষ। যেখানেই ডাক পড়ত, সেখানে ছুটে যেতেন টিনশেডের কাজ নিয়ে। হঠাৎ এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা ও শরৎকালে গ্রামে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুরনো মাটির ঘরের গর্তে সাপ লুকিয়ে থাকে। সাপের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা না দিলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।মুকুন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, একজন পরিবারের আশ্রয়দাতা মানুষকে সাপ কেড়ে নেওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং উপজেলা পর্যায়ে সাপের কামড় প্রতিরোধে জরুরি চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হবে।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক বলেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে এলে চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু অনেকেই ঝাড়ফুঁক বা তাবিজ-কবজের পেছনে সময় নষ্ট করেন। এতে অমূল্য প্রাণ ঝরে যায়।মুক্তারের মৃত্যুতে চকদূর্গা গ্রামে নেমেছে শোকের ছায়া। গ্রামবাসীর চোখে অশ্রু, মুখে একটাই প্রশ্ন—এমন মৃত্যু কি হওয়া উচিত ছিল?
এদিকে, বিরামপুর উপজেলার হাসপাতাল ও আশেপাশের চারটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও, এখানে সাপে কামড়ানো রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম (প্রতিষেধক টিকা) নেই। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট