1. live@khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ : খবরের কণ্ঠ
  2. info@www.khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
চুনারুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনে দুটি ট্রাক্টর,১০টি মেশিন জব্দ ও জরিমানা প্রদান। মাধবপুরে রাতে দিনে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ। মাধবপুরে ট্রাকে-বালির নিচে থাকা ১৪ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ শায়েস্তাগঞ্জে তারেক রহমানের জনসভাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার। বাহুবলে রাতের আঁধারে মাটি উত্তোলনে প্রশাসনের অভিযানে ট্রক্টর আটক ও কারাদণ্ড প্রদান। শীতার্তদের মাঝে গোয়াইনঘাট ছাত্র পরিষদের শীতবস্ত্র বিতরণ। ছাত্রদলের উদ্যোগে মোহনগঞ্জ পৌর গোরস্থানে আগাছা পরিষ্কার ছাত্রদলের উদ্যোগে মোহনগঞ্জ পৌর গোরস্থানে আগাছা পরিষ্কার গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন। নরসিংদীর শিবপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র,মাদক, অর্থসহ গ্রেফতার সাত।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ শাহ আরেফিন টিলায় ফের চলতেছে পাথর লুটপাট !

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

 

 

এ কে আজাদ || সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি: দৈনিক খবরের কন্ঠ পত্রিকা||

 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাথরের খনি’ হিসেবে পরিচিত শাহ আরেফিন টিলা ‘পাথরখেকোদের’ তান্ডবে এখন পরিণত হয়েছে মরা জলাশয়ে। এখানে মূল টিলার প্রায় কিছুই নেই, গর্তঘেঁষে থাকা বসতভিটাগুলো পড়েছে হুমকির মুখে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে পাথরখেকোরা গিলে ফেলেছে এই ‘পাথরের খনি’টি। রাজনৈতিক পরিচয় আর প্রভাবশালীরা মিলেমিশে এই টিলা থেকেই লুটে নিয়েছে শতকোটি টাকার পাথর। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও পাথর লুট বন্ধ হয়নি। অবশেষে টিলা কেটে পাথর লুটপাটের ঘটনায় ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (পরিবেশ) পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে (৪৫) প্রধান আসামি করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন জালিয়ারপাড় এলাকার মনির মিয়া (৪৫), একই এলাকার আবদুল করিম (৫০), আবদুর রশীদ (৫৫), চিকাচহরের (নারাইনপুর) আইয়ুব আলী (৫৫), একই এলাকার আঞ্জু মিয়া (৫০), সোহরাব আলী (৩৯), তৈয়ব আলী (৪৫), বতুল্লাহ মিয়া (৪০), আবদুল হান্নান (৪০), আনোয়ার আলী (৫৫), আনফর আলী (৫৫), গরীব উল্লাহ (৫৮),  জালিয়ারপাড়ের  মো. ইব্রাহিম (৪০), আবদুন নূর (৪৫),  মো. ইসমাইল (৩৮), আলী হোসেন (৩৫), আবুল হোসেন (৩০), ফয়জুর রহমান (৩৮),  রফিক মিয়া (৩৫),  বাবুল মিয়া (৪০), বশর মিয়া (৫০), ফারুক মিয়া (৪০),  কালা মিয়া (৩৮), এলাইছ মিয়া (৩৬),  বাবুলনগরের  রাসেল মিয়া (৩২), চিকাডহরের (নারাইনপুর) লিটন মিয়া (৩৭), পাড়–য়া উজান পাড়ার সোহেল মিয়া (৩৩), কেয়ামত আলী (৩৮), পাড়–য়া মাঝপাড়ার হাসনু চৌধুরী (৫৫), চিকাডহরের আবদুর রহিম (৩৮), আকদ্দুছ আলী (৪৫), আজির উদ্দিন (৫৫), নারাইনপুরের আবদুর রহিম (৩৫), হাসন মিয়া (৪২), চিকাডহরের শাহীন মিয়া (৩২), পাড়–য়া মাঝপাড়ার আলী হোসেন (৪৫), জালিয়ার পাড়ার সেবুল আহমদ (৩৬), হুঁশিয়ার আলী (৪২) ও ফয়জুর রহমান (৩৭)।

মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে- পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদ, কোম্পানীগঞ্জ থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (নি.) তন্ময় কান্তি দাস ও কোম্পানীগঞ্জ ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াদ আলীসহ ৫জনকে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের চিকাডহর মৌজায় অবস্থিত শাহ আরেফিন টিলা এলাকার মাজার, কবরস্থান ও সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে স্থানীয় শ্রমিকদের প্ররোচিত করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর তোলার মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থার ক্ষতি করছিলেন কিছু ব্যক্তি। এ ঘটনায় ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৬ (খ) লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করা হয়।

আসামিদের বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মী, সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৩ জানুয়ারি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে কয়েক শ’ শ্রমিক দিয়ে রেকর্ডীয় ও দৃশ্যমান টিলা ভূমি থেকে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করছিলেন। আসামিরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তাদের তত্ত¡াবধানে শাহ আরেফিন টিলার পার্শ্ববর্তী জালিয়ারপাড়, চিকাডহর নারাইনপুর গ্রামের শত শত শ্রমিক নিয়োজিত করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করাচ্ছেন।

লোকমুখে কথিত আছে, প্রায় ৭০০ বছর আগে হযরত শাহজালাল (রহ.)’র সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সঙ্গী শাহ আরেফিন খাসিয়া পাহাড় এলাকা পরিভ্রমণে এসে এই টিলার চূড়ায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন। ১৩৭ দশমিক ৫ একরের টিলাটিতে এখন সেই বিশ্রামের জায়গাটিই শুধু কোনমতে টিকে আছে। পাথর তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে শুধুমাত্র এখানেই অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

সরকারি এই টিলাটিতে ২০০০ সাল থেকে অল্প অল্প পাথর তোলা হলেও ২০০৯ সালে একটি চক্র প্রশাসনকে হাত করে পাথর উত্তোলন শুরু করে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বারবার অভিযান চালালেও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়নি। ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে ৮৭ পাথরখেকোকে চিহ্নিত করা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে অধিকাংশই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট