
এ কে আজাদ স্টাফ রিপোর্টার।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক বৃদ্ধা নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক কিশোরী ও তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিশোরীকে শ্লীলতাহানি বা অপহরণের চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া বীর মঙ্গল হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দিলারা বেগম (৫২) ওই এলাকার মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। আহতরা হলেন প্রবাসী আম্বিয়ার স্ত্রী সাজনা বেগম (৩০) এবং তার মেয়ে হাবিবা আক্তার (১২)। আহত হাবিবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ঘরের দরজা খোলা থাকায় বাতাস প্রবেশ করছিল। এ সময় সাজনা বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, এক ব্যক্তি তার পাশে শুয়ে থাকা মেয়ে হাবিবা আক্তারের ওপর ঝুঁকে রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্ত হাবিবার মুখ চেপে ধরে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সাজনা বাধা দিতে গেলে হামলাকারী তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে মা-মেয়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় হাবিবা চিৎকার করতে থাকলে দুর্বৃত্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে ছুটে আসেন দিলারা বেগম। তিনি এগিয়ে এসে হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তার বুকের ডান পাশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আহত সাজনা বেগম দাবি করেছেন, হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত একজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল ও এসআই হাফিজ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পেছনে শুধুমাত্র শ্লীলতাহানির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া আশপাশের লোকজনের বক্তব্য, সম্ভাব্য পূর্বশত্রুতা, ঘটনাস্থলের আলামত এবং হামলাকারীদের চলাচলের পথ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের নজরদারিতেও রাখা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। খুব দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, নিহত দিলারা বেগমের তিন ছেলে ও এক প্রতিবন্ধী মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে দুইজন প্রবাসে এবং একজন দেশে অবস্থান করছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।