
মীর দুলাল।। হবিগঞ্জের বাহুবলে গ্রামের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুইজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাত চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাহুবল থানার হিলালপুর এলাকার মৃত হিরা মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৪৫), সবুজ মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান (২৫), আব্দুল মালিকের ছেলে রুবেল মিয়া (৩০), মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (৪৬) এবং মৃত হিরা মিয়ার ছেলে কবির মিয়া (৫৫)।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, সেলু মিয়া এবং হেলাল উদ্দিন বাহুবল থানার আতিদ্যপুর এলাকার বাসিন্দা।
গ্রামের চলাচলে রাস্তা নিয়ে সেলু মিয়ার সাথে বিবাদীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য গত জুন মাসের ১৫ তারিখ সন্ধ্যার পর বাহুবল থানায় সালিশ বৈঠকের সময় নির্ধারণ করার কারণে বিবাদীরা ভিকটিম সেলু মিয়ার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
এরই জের ধরে ঘটনার দিন গত জুন মাসের ১৫ তারিখ বেলা ১২টার দিকে বিবাদীরা ভিকটিম সেলু মিয়াকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজারের পাশে একা পেয়ে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করে এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
ভিকটিম সেলু মিয়ার চিৎকার শুনে ভিকটিম হেলাল উদ্দিন তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে বিবাদীরা তাকেও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন ভিকটিম সেলু মিয়া এবং ভিকটিম হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসময় হেলাল উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে হেলাল উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনায় সেলু মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে জেলার বাহুবল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, চুনারুঘাট থানার উবাহাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করেন।
এ তথ্য টি নিশ্চিত করেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিগণদের বাহুবল মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উক্ত মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’