1. live@khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ : খবরের কণ্ঠ
  2. info@www.khaborerkantho.com : খবরের কণ্ঠ :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
গোয়াইনঘাটে পুলিশের ‘ফোর্স মোবিলাইজেশন ড্রিল’ ও বিশেষ অভিযান নলডাঙ্গা’র পাটুলে, ট্রাকের চাপায় ভাংড়ী ব্যবসায়ী নিহত।  পানছড়িতে পশু জবাই ও কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান।  আজমিরীগঞ্জে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার। কোরবানি সত্য, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির অনন্ত আধ্যাত্মিক শিক্ষা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাবের প্রেস ব্রিফিং। পানছড়ি থানায় ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত ঘোড়াঘাটে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন।  সিলেটে র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মিষ্টি আঙুর চাষে সফল আলামিন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
  • ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান।
কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)থেকে।

আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। এমন বিশ্বাস থেকেই ঝিনাইদহের আলামিন হোসেন ১০ কাঠা জমিতে আঙুর চাষের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।

আঙুর বিদেশি ফল হওয়ায় এ অঞ্চলে হবে না ভেবে সে সময়ে অনেকে হাসি রহস্য করে এ চাষে লোকসান দেখছিলেন। কিন্ত তাদের সে ধারনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

আলামিনের ক্ষেতের মধ্যকার (বানে) সেডে এখন থোকায় থোকায় ঝুলে আছে আঙুর। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। এত বেশি আঙুর ধরছে দেখে মানুষও আশ্চর্য হচ্ছেন। আলামিনের এমন সফলতার হাতছানিতে এখন অনেকেই আঙুর চাষের প্রস্ততি নিচ্ছেন।

আলামিন হোসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের ঘোপপাড়া গ্রামে ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে।

আলামিনের আঙুরের ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, ক্ষেতের চারপাশে জাল দিয়ে ঘেরা। ভিতরে সিমেন্টের খুঁটির ওপর বিশেষ সুতায় বোনা জাল বিছিয়ে বান তৈরি করা হয়েছে। যে বান বা মাচাংয়ের ওপর দিয়ে বেয়ে চলে গেছে আঙুর গাছের লতা।

সারাক্ষেতে মাচাংয়ে লতিয়ে যাওয়া আঙুর গাছের ডগায় থোকায় থোকায় লাল, সাদা, কালোসহ কয়েকটি রঙের আঙুরের থোকা ঝুলছে।

আলামিন হোসেন জানান, মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান তিনি। বাবার ৩/৪ বিঘা জমি আছে। এখান থেকে যা আসে তা দিয়ে ঠিকমত সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে এইচএসসি’র পর আর লেখাপড়া করতে পারেননি। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই ফারুক হোসেন একটি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে বাড়িতে থাকেন না। ছোট হলেও এখন সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “চাষের জমি বেশি নেই। যে কারণে অল্প জমিতে বেশি লাভের কিছু চাষ করার কথা ভাবছিলাম। চ্যালেঞ্জ হিসেবে আঙুরকেই বেছে নিই। ২০২৪ সালে এপ্রিল মাসে মহেশপুর থেকে বাইক্লোর, একুলো, জয়সিডলেস, ভেলেজ, মারসেলকোচসহ ছয়টি জাতের ৮২ পিস আঙুরের চারা কিনে রোপণ করি। প্রতিপিচ চারার দাম পড়েছিল ৪৩০ টাকা করে। বছর পার না হতেই আঙুর ধরেছে। ঠিকমত পরিচর্যা করতে পারলে একটি আঙুর ক্ষেত থেকে ১০ বছরের অধিক সময় আঙুর পাওয়া সম্ভব।”

তিনি আরো বলেন, “এ পর্যন্ত দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম বছরটাতেই বেশি খরচ হয়। এরপর যে কয় বছর গাছ সতেজ থাকবে, খুব বেশি একটা খরচ হবে না।”

একই গ্রামের তুষার হোসেন জানান, আলামিনের আঙুর চাষ দেখে প্রথমদিকে যারা এ অঞ্চলের ভালো হবে কিনা এবং লাভজনক কিনাসহ বিভিন্নভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন- ক্ষেতের আঙুর দেখে তারা নিজেরাও এখন আঙুর চাষের প্রস্ততি নিচ্ছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলম রনি জানান, এক সময় আঙুরকে বিদেশি ফল বলা হতো। তবে এখন আমাদের দেশে পরীক্ষামূলক চাষ হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এ উপজেলাতে চলতি বছর আলামিন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করেছেন। ধরেছেও ভালো। যদি সুস্বাদু হয়, বাজারমূল্য ভালো থাকে এবং চারার মূল্য সহনশীল পর্যায়ে থাকে- তাহলে দ্রুতই এ ফলের চাষ কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট