শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কোটালীপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ফেক আইডিতে তরুণীর ছবি-ভিডিও বিকৃত করে ছড়ানোর অভিযোগে সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার ঘোড়াঘাটে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায়দের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ। বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত। চুনারুঘাটে গণধর্ষণ মামলার আসামি মিজান র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার। নরসিংদীর নিখোঁজের তিন দিন পর ইব্রাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার। গোপালগঞ্জে তৌহিদি জনতার ব্যানারে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে সড়ক প্রদর্শনী নওগাঁর বলিহার চকরাশ বল্লবগ্রামে এমপি ধলুর উদ্যোগে রাস্তার উন্নয়ন। গোয়াইনঘাটে বিজিবির সচেতনতাবৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের মাঝে   ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। মোহনগঞ্জ পৌরসভার ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা।
Title :
কোটালীপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ফেক আইডিতে তরুণীর ছবি-ভিডিও বিকৃত করে ছড়ানোর অভিযোগে সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার ঘোড়াঘাটে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায়দের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ। বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত। চুনারুঘাটে গণধর্ষণ মামলার আসামি মিজান র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার। নরসিংদীর নিখোঁজের তিন দিন পর ইব্রাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার। গোপালগঞ্জে তৌহিদি জনতার ব্যানারে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে সড়ক প্রদর্শনী নওগাঁর বলিহার চকরাশ বল্লবগ্রামে এমপি ধলুর উদ্যোগে রাস্তার উন্নয়ন। গোয়াইনঘাটে বিজিবির সচেতনতাবৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের মাঝে   ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। মোহনগঞ্জ পৌরসভার ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম: কাগজে-কলমে কেনাকাটা, বাস্তবে মালামাল শূন্য বিদ্যালয়

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

 

আরিফুল ইসলাম
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মালামাল কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

ঠিকাদার আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সমঝোতায় কোন ধরনের মালমাল না কিনেই সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভুয়া বিল ভাউচারে উত্তোলন করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়টি নানা উপকরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নানা উপকরণ কেনাকাটায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে উপকরণ ক্রয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ঠিকাদার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ উপকরণ ক্রয় না করে নগদ টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তবে ঠিকাদার আল আমিন বলেন- বিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটির হাতে সকল উপকরণ বুঝিয়ে দিয়ে তারপর প্রত্যয়ন নিয়েই টাকা বিল উত্তোলন করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরণের উপকরণ কেনাকাটার জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের সাইন্স ল্যাবের নানা রাসায়নিক, বইপুস্তক, গবেষণা সরঞ্জামাদি, শিক্ষা উপরকণ, ক্রীড়া সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সরবরাহ করার কথা ছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২২ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পায় নেত্রকোনার মেসার্স ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে ৭ দিনের মধ্যে উপকরণ সরবার করতে বলা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী আল আমিন নামে এক ব্যক্তি। এদিকে উপকরণ বুঝে নিতে নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সাথে সমঝোতা করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেয় ঠিকাদার। আর ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে উপকরণ বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারকে উপকরণ সরবারহের প্রত্যায়ন দেন প্রধান শিক্ষক। ওই প্রত্যয়ন জমা দিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে চার লাখ ৮০ হাজার ২৫৫ টাকা বিল তুলে নেন ঠিকাদার। ফলে উপকরণ বঞ্চিত হয় বিদ্যালয়টি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের ল্যাবের উপকরণ, বই পুস্তকসহ নানা উপকরণ ঠিকাদার সরবরাহ করবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ঠিকদারের সাথে সমঝোতা করে উপকরণ না কিনেই ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে ফেলেছেন। এখন পর্যন্ত একটি উপকরণও কেনা হয়নি। ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটিতেও প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজনদের রাখা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষক বলছেন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা ব্যয় করেছেন। মূলত এসব কাজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলেই ব্যয় করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটির সদস্য আজিজুল হক বলেন, কমিটির সদস্য হলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোন মালামালও বুঝে পাইনি। প্রধান শিক্ষকের কথা মতো স্বাক্ষর করেছি মাত্র। এছাড়া আর কিছু জানি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আল আমিন বলেন, যথাযথ নিয়মে কমিটির সামনে সকল মালামাল বুঝিয়ে দিয়ে প্রত্যায়ন নিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।

তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উপকরণ কেনার দরপত্র হলেও ঠিকাদার কোন উপকরণ দেয়নি। আমরা নগদ টাকা তুলে নিয়েছি। খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা খরচ করা হয়েছে। কোন উপকরণ এখনো কেনা হয়নি। পরে দরকার হলে উপকরণ কেনা হবে। বিষয়টি অনিয়ম কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি অবহিত করলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা.নাসির উদ্দীন বলেন, দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার বিদ্যালয়ে মালামাল সরবরাহ করবেন। নগদ টাকা উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews