
পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায় বড়ুয়া গ্রামে (কালিগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকায়) দুই যুবক যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ বছর যাবৎ মৌমাছি চাষ করে আসছেন। তিন বছরের মৌমাছি চাষের প্রশিক্ষনে স্বল্প পুঁজি নিয়ে চোখে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে দিনরাত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রথমে ১০০ মৌচাকের বাস্ক নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখন বাস্কের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০। প্রতিটি বাস্কে একটি করে রানী মৌমাছি থাকে । একটি রানী মৌমাছির ডিম ফুটে কয়েকশ বাচ্চা জন্ম নেয় । উপযুক্ত মৌসুমে বাচ্চারা সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাস্কে ফিরে এসে মোম দাঁড়া নির্মিত কৃত্তিম মৌচাকে জমা করে। জমাকৃত মধু মেশিনের সাহায্যে ব্যবহার উপযোগী মধু সংগ্রহ করা হয়। পুরাতন প্রশিক্ষক আবু তাহেরের নেতৃত্বে প্রাথমিকভাবে শুরু হলেও বর্তমানে দেখাশোনা করছেন
আল-আমিন হোসেন (১৬) বাবু মল্লিক (২০) । উপযুক্ত মৌসুমে প্রতিমাসে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা আয় করে করে স্বনির্ভর আলামিন ও বাবু মল্লিক। তবে বছরের ৬ মাস মধু উৎপাদনের উপযোগী না হওয়ায় রানী মৌমাছিদের বাঁচিয়ে রাখতে প্রচুর অর্থ খরচ করতে হয়। এই সময় মৌচাষীদের জীবন কাটে সংকটের মধ্যে । উপযুক্ত আর্থিক সংস্থানের অভাবে মৌচাষ পরিচর্যা খুবই কষ্ট হয় , অন্যদিকে সংসার খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হয়। মৌচাষীদের ধরে রাখার জন্য পিক সময় সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে সারা বছর স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কাজ করতে পারবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। মৌ চাষী আল- আমিন বলেন, আমাদের যদি পিক সময় সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয় তাহলেই সারা বছর পুরোদমে মধু উৎপাদনে করতে কোন সমস্যা হবে না । আশা করি সরকারি পক্ষ থেকে মৌচাষে দ্রুত সাহায্যের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে। কালিগঞ্জ বাজারের বর্ণিক সমিতির সভাপতি বাবু প্রভাষ চন্দ্র বৈদ্য দৈনিক সকালবেলার প্রতিনিধিকে জানান , মধু একটি পুষ্টি গুনাগুন সম্পন্ন প্রয়োজনীয় ভেষজ , তাই সরকারের উচিত মৌচাষীদের আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।