
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর দীঘলবাক ইউনিয়নের ৫ নম্বর মাধবপুর ও গালিমপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে আফছর মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয় নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীঘলবাক ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে আফছর মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হয়রানিতে ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা আকুল মেম্বারের সঙ্গে যোগসাজশ করে এলাকার সরকারি রাস্তা ও কবরস্থানের গাছ কাটার সঙ্গেও আফছর মিয়ার সম্পৃক্ততা ছিল। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। সম্প্রতি মাধবপুর ও গালিমপুর মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই কমিটিতে আফছর মিয়া স্থান না পাওয়ায় তিনি মাদ্রাসার দানশীল ব্যক্তি, অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আফছর মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে চলাফেরা এবং মাদকাসক্তির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার রাজনৈতিক ভূমিকা, অতীত কর্মকাণ্ড ও সামাজিক অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন। তাই আফছর মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।