রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ,ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি,অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত। গোপালগঞ্জে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ থেকে খোলস পাল্টে বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আফছর। কোটালীপাড়ায় মৌমাছি চাষে স্বনির্ভর দুই যুবক। কোটালীপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতার কফিশপে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ হবিগঞ্জের সাতছড়ির গহীন জঙ্গল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার। মোহনগঞ্জ উপজেলার গৃহবধূ মুন্নী আক্তার হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন হাজীগঞ্জের রাজার গাওঁ স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাদক বিরোধী র‍্যালী। রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র ও উদার মূল্যবোধের গুরুত্ব নিয়ে হাজীগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
Title :
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ,ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি,অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত। গোপালগঞ্জে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ থেকে খোলস পাল্টে বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আফছর। কোটালীপাড়ায় মৌমাছি চাষে স্বনির্ভর দুই যুবক। কোটালীপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতার কফিশপে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ হবিগঞ্জের সাতছড়ির গহীন জঙ্গল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার। মোহনগঞ্জ উপজেলার গৃহবধূ মুন্নী আক্তার হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন হাজীগঞ্জের রাজার গাওঁ স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাদক বিরোধী র‍্যালী। রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র ও উদার মূল্যবোধের গুরুত্ব নিয়ে হাজীগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ,ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি,অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত।

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

 

মীর দুলাল।। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্কর পুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় আবারও খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে দিকে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

এর আগে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিশেষ বরাদ্দে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল।

কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ভারতের পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপে ফের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

নতুন করে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করায় বহু বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাঁধ ভাঙার কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ।

তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এর আগে গত ৯ জুলাই লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ বরাদ্দে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এর মধ্যেই ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বাঁধের সংস্কার করা অংশ ফের ভেঙে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন করে সদর উপজেলার পইল ইউনিয়ন ও বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনে বাঁধ দুর্বল হওয়ার অভিযোগ,স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালীগঞ্জ বাঁধসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের চাপ পড়ায় বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ফলে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় নদীর তীর ও বাঁধ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে কালীগঞ্জ এলাকায় ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছিল।

তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বাঁধ সংস্কার করলেই হবে না। খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কাটা রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বাঁধের ভাঙন রোধ করা না গেলে নদীর পানি আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।
এতে নতুন করে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews