
মীর দুলাল।। হবিগঞ্জের সব অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জেলাজুড়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ।
সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জেলার কোনো সড়কে যানবাহন না চালানোর অবস্থানে অনড় রয়েছে স্থানীয় পরিবহন মালিক সমিতি।
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে চলাচলকারী বিরতিহীন বাস মৌলভীবাজারে আটক এবং পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে এই ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল নিজ কার্যালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় এসএমএস পরিবহনের লোকজন হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের কর্মীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে আসছেন।
বর্তমানে তাদের তিনটি বাস মৌলভীবাজারে এসএমএস পরিবহনের কার্যালয়ের সামনে আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হলেও নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এর আগে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ এমপির নেতৃত্বে পাঁচজন সংসদ সদস্য ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সমঝোতা বৈঠকে দুপক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।
তবে সমঝোতার পরও সিলেট থেকে যাওয়া তিনটি বাস মৌলভীবাজারে পুনরায় আটকে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হলেও পরে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না।
ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।
এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়,।
হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে।
বাসগুলো এখনো ছাড়েনি। তাই বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করুক। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’