
পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রতিনিধি( গোপালগঞ্জ)
সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অন্যতম ধর্মী উৎসব শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পূজা। লক্ষী পূজাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার বিল বাঘিয়ায় আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয় তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহ নৌকা বাইচ । বংশপরম্পরায় এই নৌকা বাইচকে ঘিরে পুরো কোটালীপাড়ায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। এই দিনটিকে ঘিরে প্রতিটি বাড়িতে অতিথীদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে । পাড়ায়- পাড়ায় আনন্দের শিহরণ জেগে ওঠে। এ উৎসব শুধু সনাতন ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় । পুরো কোটালীপাড়ায় হিন্দু – মুসলিম সকলের সর্বজনীন অনুষ্ঠান হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় । অতিথীদের সমাগমে মুখরিত হয় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা । তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ কেন্দ্র করে বিল বাগিয়ার পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে দর্শকের উপস্থিতিতে কালিগঞ্জ বাজার, বুরুয়া, কলাবাড়ি কদমবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলিতে তিল ধারনের ঠাই নেই । দুপুর বারোটার পর হতেই স্বপ্রণোদিত হয়ে নৌকার মালিকেরা রঙিন সাজে নৌকা গুলোকে সাজিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। মাঝি মল্লারা নৌকার তালে – তালে হেইও বলে মধুর ধ্বনিতে দ্রুত নৌকা চালিয়ে শক্তি প্রদর্শন করে। বাবুর খালের দুই পার্শ্ববর্তী এলাকায় উপস্থিত দর্শকের করতালিতে আনন্দের শিহরণ জেগে ওঠে। এটা শুধু লক্ষ্মী পূজা নয় ধর্মীয় অনুভূতির এক মিলন মেলার সেতু বন্ধন। দোকানীরা বিভিন্ন প্রকারের খেলনা ও খাদ্য সামগ্রী উপকরণ সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের অপেক্ষায়
সর্বদা প্রস্তুত। নৌকা বাইচ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদনের জন্য কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের ভ্রাম্যমান ট্রলার বাবুর খালের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার করেন । কোটালীপাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) জানান, নৌকা বাইচকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রশাসনের পাশাপাশি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরাও শান্তি শৃঙ্খলার জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন । সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদের অন্যতম প্রার্থী বাবু প্রভাষ চন্দ্র বৈদ্য বলেন , এই নৌকা বাইচ আমার ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। এটা শুধু হিন্দু ধর্মী অনুষ্ঠান নয়, কোটালীপাড়ার সকল মানুষের ঐতিহ্য ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ।