বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
গোবিপ্রবি’তে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অত্যাধুনিক গবেষণাগার উদ্বোধন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সন্তানের হাতে পিতা খুন ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতা মূলক সভায় বক্তব্য রাখেন মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন। শিবপুর পুটিয়া ইউনিয়নে ১০ হাজার ডেঙ্গু সচেতনতা লিফলেট বিতরণ করেছি সচিব আলতাফ হোসেন। চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বনিক ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল। গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত” নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্টে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা  মোহনগঞ্জে শিক্ষকদের আপত্তি উপেক্ষা করে ১১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রদবদলের অভিযোগ। নলডাঙ্গা আযান দেয়া অবস্থায় মোয়াজ্জেমকে ছুরিকাঘাত: গোপালগঞ্জে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।
Title :
গোবিপ্রবি’তে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অত্যাধুনিক গবেষণাগার উদ্বোধন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সন্তানের হাতে পিতা খুন ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতা মূলক সভায় বক্তব্য রাখেন মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন। শিবপুর পুটিয়া ইউনিয়নে ১০ হাজার ডেঙ্গু সচেতনতা লিফলেট বিতরণ করেছি সচিব আলতাফ হোসেন। চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বনিক ঘুস গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল। গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত” নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্টে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা  মোহনগঞ্জে শিক্ষকদের আপত্তি উপেক্ষা করে ১১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রদবদলের অভিযোগ। নলডাঙ্গা আযান দেয়া অবস্থায় মোয়াজ্জেমকে ছুরিকাঘাত: গোপালগঞ্জে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

গোয়াইনগাটের তোয়াকুল পশুরহাটে অবৈধ গরুর বৈধতায়র রশি দিচ্ছে- রুহুল ও বিল্লাল!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৩৯৩ বার পড়া হয়েছে

 

এ কে আজাদ || সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি:
দৈনিক খবরের কন্ঠ পত্রিকা||

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ গ্রামের বাসিন্দা বিলাল উদ্দিন মেম্বার ওরফে মেকানিক বিলাল ও তার চাচা রুহুল আমিন ওরফে বোরকা রুহুলের রাজত্বে অতিষ্ঠ তোয়াকুল এলাকার বাসিন্দারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী-যুবলীগের দাপট খাটিয়ে অবৈধ সকল ধরনের ভারতীয় পণ্যের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে গেছেন রুহুল আমিন ওরফে বোরকা রুহুল ।

৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও থেমে নেই বিগত সরকারের দোসর রুহুল আমিনের কর্মকাণ্ড ।

বর্তমানে তারা খোলস পাল্টে বিএনপি’র লোক হিসেবে নিজেকে দাবি করে রুহুল আমিন স্থানীয় কিছু বিএনপি র পাতি নেতাদের ম্যানেজ করে বর্তমানে বিএনপির লোক হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন ।

আর এই রুহুল আমিনের বদৌলতে তার ভাতিজা তোয়াকুল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার বিল্লাল উদ্দিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তোয়াকুল বাজার পশুর হাটের ইজারা আনেন ।
আর এরই ফলশ্রুতিতে চাচা-ভাতিজা মিলে দিচ্ছেন ভারতীয় অবৈধ গরুর বৈধতা ।

বিল্লাল মেম্বার পেশায় একজন মোটর মেকানিক তিনি প্রথমে স্থানীয় বাজারে একটি মোটরসাইকেলের ওয়ার্কশপে কাজ করতেন, এলাকায় মোটর মেকানিক হিসেবেই তার পরিচিতি রয়েছে এলাকায় কারো মোটরসাইকেল পানির পাম্প ইত্যাদি নষ্ট হলে তা ঠিক করতেন বিল্লাল উদ্দিন।

তার চাচা রুহুল আমিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে যুবলীগের নেতা হিসাবে তোয়াকুল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন আছেন।এরই জেরে টানা দুইবার বিল্লাল উদ্দিন তোয়াকুল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন ।

ইউপি সদস্য নির্বাচিত হবার পর থেকেই আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি বিল্লাল উদ্দিন মেম্বারকে । রুহুলের মাধ্যমে নিজের নামে তোয়াকুল পশুর হাটের ইজারা এনে শুরু করেন অবৈধভাবে সরকারের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় গরু/ মহিষের ব্যবসা।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বিল্লাল উদ্দিন মেম্বার ও তার চাচা রুহুল আমিন তোয়াকুল বাজার পশুরহাটের ইজারাকৃত রশিদ ছাঁপিয়ে তার মাধ্যমে অবৈধ ভারতীয় গরু মহিষের বৈধতা দিয়ে যাচ্ছেন । এখানে চাচা-ভাতিজা মিলে কায়েম করেছেন তাসের রাজত্ব ।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন , রুহুল ও বিল্লাল মেম্বার এর কারণে ভারতীয় অবৈধ গরুর আগ্রাসনে তাদের নিজের বাড়ির দু’চারটে দেশীয় গরুও তারা তোয়াকুল বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না ।কারণ তাদের পালিত গরুর দামের তুলনায় কম দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অবৈধপথে আসা ভারতীয় গরু ।

সূত্র মতে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইজারাকৃত তোয়াকুলবাজার পশুর হাটের রশিদ দিয়ে নিয়মমাফিক প্রতিটি গরু / মহিষ থেকে ৫০০/- টাকা দিয়ে সঠিকভাবে শুল্ক আদায় করছেন ঠিকই আবার এই রশিদ দেখিয়ে অলিখিতভাবে ভারতীয় প্রতিটি অবৈধ গরু মহিষ থেকে আদায় করছেন ১৫’শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ।

জানা গেছে, সম্প্রতি দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের
কারণে বর্তমানে বন্ধ আছে গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপারের পশুর হাট ।আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রম-রমা অবৈধ ভারতীয় গরু মহিষের চালান দেদারছে আসছে তোয়াকুল বাজার পশুর হাটে যেখানে আগে সপ্তাহে একদিন তোয়াকুল বাজার পশুর হাট বসতো, সেখানে বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে সোমবার _ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বসছে এই পশুর হাট,

অন্যদিকে তোয়াকুল বাজারের পাশাপাশি বিলাল মেম্বার ও বোরকা রুহুলের নিজ গ্রামের স্কুল মাঠে প্রতি সপ্তাহে
চার দিন ভারতীয় অবৈধ গরুর হাট বসিয়ে তারা আসবে কি আসবে না আমরা চলছে রমরমা ব্যবসা
সেই স্কুল মাঠে যে গরু বিক্রি হচ্ছে তার রশিদ দেওয়া হচ্ছে তোয়াকুল বাজারে,গ্রামবাসীর অভিযোগ হচ্ছে মানুষের বাড়ি ঘর ভারতীয় বৈঠকের কারণে হচ্ছে পরিবেশ নষ্ট অন্যদিকে ছোট ছোট গরু ভর্তি পিকাপ এর কারণে
গ্রামের মানুষ আছে খুব চিন্তিত রাস্তাঘাটে বাচ্চাদের বাইর হইতে পারতেছেন রুহুল ও বিলালের ভয়ে মানুষ কিছুই বলতে পারতেছে না ।

চোরা চালানের মাধ্যমে আনা গরু / মহিষের বিশাল বাণিজ্যের কারণে বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন পশুর হাটটি পরিচালনা করছেন বিল্লাল উদ্দিন মেম্বার ও তার চাচা রুহুল আমিন ।

বিগত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে গরুর মালিকের কাছ থেকে জানা যায়, ইজারাকৃত রশিদের মাধ্যমে প্রতিটি গরু কিংবা মহিষ বাবত পাঁচশত টাকা লিখা থাকলেও অলিখিতভাবে পশুর ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতিটি গরু / মহিষ ছোট-বড় আকার ভেদে ১ হাজার থেকে ১৫’শ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে ।আর রাস্তায় পুলিশি ঝামেলায় পড়বেনা এই কথা বলে রুহুল আমিন পুলিশের নামে গাড়ি প্রতি ১৫’শ থেকে ২
হাজার টাকা পর্যন্ত রাখছেন ।

এ ব্যাপারে ফোনে জানতে চাইলে তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ গ্রামের বাসিন্দা ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার বিল্লাল উদ্দিনে
এ প্রতিবেদক কে বলেন, ” আমি বাজারের ইজারা এনেছি গরু কোনটা ভারত থেকে আসলো আর কোনটা বাংলাদেশের সেটা দেখার দায়িত্ব আমার নয়।আমার বাজারে ভারতীয় আর দেশী দেখার সময় নেই, আমরা রশিদ দিয়ে গরু বিক্রি করি ।”

তার কাছে ভারতীয় গরুর কানে হলুদ রঙ্গের ট্যাগ ঝোলানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” আপনি আমাকে বলে দেন যে ভারতীয় গরুর কানে ফুটো করে আমি কোন রঙের ট্যাগ ঝুলিয়ে দিলে আপনি খুশি হবেন ।আর এসব নিউজ করে কোন লাভ হবে না কারণ থানা পুলিশ আমাদের ম্যানেজ করা আছে ।”

এ ব্যাপারে জানতে বিল্লাল উদ্দিন মেম্বার এর চাচা রুহুল আমিনের সাথে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভারতীয় গরুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,

আপনি আমার ভাই এসব নিয়ে নিউজ করে কি করবেন ,আমার এলাকায় আপনার দাওয়াত রইলো একদিন আসবেন নতুবা আমি আপনাদের অফিসে এসে একসঙ্গে চা খাব ।আমি এখন একটি মিটিংয়ে আছি পরে আবার কথা বলবো।”

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার সালুটিকর তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন আপনারা একদিন আসেন ।পুলিশের নামে চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই আপনারা আসলে আমরা আপনাদের সাথে নিয়ে গরুর গাড়ি আটক করবো।

উক্ত বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ,”আমি নতুন এসেছি এজন্য বিষয়টি অবগত নই । আপনি যেহেতু বলছেন আমি খোঁজ নিয়ে অবশ্যই এর ব্যাবস্থা নেব ।”

উল্লেখ্য গত ২৮ শে জানুয়ারি মঙ্গলবার এসএমপির জালালাবাদ থানা পুলিশের অভিযানে তোয়াকুল বাজার থেকে আসা মিনি পিক আপ ভর্তি পাঁচটি ভারতীয় গরুসহ একজনকে বাদাঘাট থেকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশের একটি টিম ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেছেন যে তাদের বাচ্চারা রাস্তাঘাটে বাড়ি হতে পারতেছে না ভারতীয় অবৈধ গরু ভর্তি পিকআপের কারণে , স্থানীয় গরুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যে অবৈধ ভরতীয় গরুর বৈধতার যে রশিদ দিচ্ছেন এইগুলা প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখে
বোরকা রুহুল ও বিলাল মেম্বারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসির।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews