
স্টাফ রিপোর্ট।। হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আশরাফকে দায়িত্ব নেওয়ার একদিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ওসি আলী আশরাফ কে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে থানার নতুন ওসি হিসেবে মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারকে পদায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের সই করা এক অফিস আদেশে এ বদলি করা হয়।
এর আগে গত ১৫ জুলাই বাহুবল মডেল থানার তৎকালীন ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
পরে মঙ্গলবার রাতে আলী আশরাফ বাহুবল থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন। তবে যোগদানের পরই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর একদিন পরই তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ২০২২ সালে চুনারুঘাট থানার ওসি থাকাকালে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া গুলিবিদ্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মারুফকে প্রধান আসামি করে ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে বিএনপি নেতাদের দাবি।
এদিকে ওই সময়ের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তৎকালীন ওসি আলী আশরাফের নেতৃত্বে পুলিশের অভিযান পরিচালনার দৃশ্য রয়েছে বলে বিএনপি, ছাত্রদল ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের দাবি। বাহুবলে তার যোগদানের খবর প্রকাশের পর ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানান।
পাশাপাশি অতীতে বিতর্কিত অভিযোগে আলোচিত একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া বলেন, ২০২২ সালে বিএনপির কর্মসূচিতে আমাকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করা হয়েছিল। পরে আমাকে প্রধান আসামি করে ৭৪ জনের নামে মামলা দেওয়া হয়। ওই ঘটনার কারণে আমার পরিবার চরম মানসিক চাপের মধ্যে ছিল।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আলী আশরাফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।